নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি মসজিদ সংলগ্ন একটি আতর-টুপির দোকানের মালিকানা ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন ডিআইটি মসজিদের সভাপতি, স্থানীয় দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি দোকানটির সাবেক ভাড়াটিয়া আকরামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মনগড়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ দাবি জানান।
জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকরাম নামের সাবেক ওই ভাড়াটিয়া দোকানটি নিজের দাবি করে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে একটি অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মসজিদ কমিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আকরাম যে দোকানটি নিজের বলে দাবি করছেন, সেটির প্রকৃত মালিক স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসান আহমেদ। আকরাম দীর্ঘদিন সেখানে কেবল একজন সাধারণ ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী পাওনা অর্থ ও যাবতীয় হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দোকান ছেড়ে দেন।
দোকানের কারিগর আনোয়ার নিজে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এক স্বীকারোক্তিতে জানান, “এই দোকানের প্রকৃত মালিক হাসান ভাই, আকরাম ভাই কেবল এটি ভাড়া নিয়ে চালাতেন। এমনকি আমি নিজে বিভিন্ন সময়ে দোকান ভাড়ার টাকা হাসান ভাইয়ের অফিসে গিয়ে দিয়ে আসতাম।”
ডিআইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখানে সবাই জানে যে দোকানটি হাসান আহমেদ সাহেবের এবং এখনও এটি তার অধীনেই আছে। এখন কেউ যদি মনে মনে অবাস্তব কিছু কল্পনা করে বা ‘চর্বি কলা খায়’, তা তো আমরা বলতে পারি না। আমরা যা সত্য সেটাই বলছি।” তিনি আরও জানান, হাসান আহমেদের স্ত্রী বিভা হাসান এমনকি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য প্রয়োজন হলে তারা এই দোকানটি দান করে দেবেন।
ডিআইটি রেল কলোনি জামে মসজিদ মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইমরান শরীফ জানান, ২৪-২৫ বছর আগে আকরাম রাস্তায় পলিথিন বিছিয়ে দোকানদারি করতেন। পরবর্তীতে তিনি হাসান আহমেদের কাছে অনুরোধ করে ঘরটি ভাড়া নেন।
তিনি আরও বলেন, “আকরাম বিভিন্ন সময় একাধিক মানুষকে পার্টনার বানিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করত। এসব নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বিচার হয়েছে। প্রতিবারই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে মাফ করা হয় এবং সতর্ক করা হয় যেন আর কোনো ঝামেলা না করে। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও ঝামেলা হওয়ায় চুক্তি বাতিল করা হয়। গত সপ্তাহে আমার উপস্থিতিতেই হিসাব-নিকাশ হয়; তার ২ লাখ টাকা অ্যাডভান্স থেকে ভাড়ার ৬৩ হাজার টাকা কেটে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা পাওনা হলেও, হাসান আহমেদ তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন। টাকা বুঝে নেওয়ার পর এখন একজন ভাড়াটিয়া কীভাবে দোকানের মালিকানা দাবি করে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
এদিকে ডিআইটি মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল স্পষ্ট করে জানান, “যে দোকানটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি মসজিদের কোনো অংশ নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে জেনে আসছি দোকানটির প্রকৃত মালিক বিএনপি নেতা হাসান আহমেদ। এখন কেন সাবেক ভাড়াটিয়া আকরাম এর মালিকানা দাবি করছে, তা সে-ই ভালো বলতে পারবে।”