মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

নারায়ণগঞ্জে কুমারী পূজায় ভক্তদের ঢল, দেশবাসীর মঙ্গলে প্রার্থনা

সিটি নিউজ / ৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই পূজা সম্পন্ন হয়।

এ বছর কুমারী আসনে দেবীরূপে পূজিত হয়েছে ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন বয়সী শিশু শ্রেয়সী ভট্টাচার্য। সে নগরীর চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত আনন্দ ভুবন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ডা. সুমন ভট্টাচার্য এবং মা অর্পিতা ভট্টাচার্য; তাঁরা নগরীর গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা।

পূজা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে ঢল নামে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। পূজা উপলক্ষে মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় সংগীত, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে শিশু শ্রেয়সী ভট্টাচার্যকে কুমারী আসনে বসিয়ে দেবীরূপে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মূল পূজা শুরু হয়। ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আশ্রম প্রাঙ্গণ। দুপুর সাড়ে ১২টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে শেষ হয়।

কুমারী পূজার তাৎপর্য ও পটভূমি
কুমারী পূজার গুরুত্ব তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সভাপতি তারাপদ আচার্য্য জানান “কুমারী পূজা দুর্গাপূজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুর মঠে নয়জন কিশোরীকে দেবীরূপে পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা অনুসরণ করেই রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপের প্রকাশ ঘটে। শ্রী রামকৃষ্ণের মাতৃভাবনায় নারীকে দেবীরূপে সম্মান জানানোর যে শিক্ষা রয়েছে, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে সেই পরম ভাবধারারই প্রতিফলন ঘটে। নারায়ণগঞ্জে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও মহাঅষ্টমীর পূজা অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও প্রার্থনা
কুমারী পূজা দেখতে আসা হাজারো নারী-পুরুষ ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত ছিল প্রাঙ্গণ। পূজা দেখতে আসা ভক্ত অর্পিতা রায় তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল কুমারী পূজা দেখার। এত মানুষের সমাগম দেখে খুব ভালো লাগছে, অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মায়ের কাছে প্রার্থনা, সবাই যেন ভালো ও সুস্থ থাকে।”

সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করা তরুণী প্রিয়াঙ্কা সাহা বলেন, “মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, দেশের সব অশান্তি দূর হয়ে যাক। সবাই যেন সুন্দরভাবে পূজা উপভোগ করতে পারে। পূজায় এসে নাচ পরিবেশন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।”

দেশ, জাতি ও সকল মানুষের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে মহাঅষ্টমীর এই বিশেষ আয়োজন ও আনন্দ উৎসব উদযাপিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই