বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

সিটি নিউজ / ১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদীর ৫ নম্বর ও ৩ নম্বর খেয়াঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সাঙ্গ হয়।

শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ও উলুধ্বনির সাথে দেবী দুর্গার প্রতিমা শীতলক্ষ্যা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বিসর্জনের বিষাদের সুর বেজে ওঠে পুরো শীতলক্ষ্যার তীরে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এবং জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিআইডব্লিউটিএ-র ৩ নম্বর ঘাটে প্রধান বিসর্জন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রামকৃষ্ণ মিশন, আমলাপাড়া, সাহাপাড়া, উকিলপাড়া, নিতাইগঞ্জ ও টানবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপের পাশাপাশি শহরতলী ও উপজেলা পর্যায়ের মণ্ডপগুলোর প্রতিমাও কাছাকাছি নদীগুলোতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে মণ্ডপগুলোতে পূজা ও অর্চনার আয়োজন করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা ঢাকের তালে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, পূজনীয় দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন এবং বিজয়া দশমীতে ঘোড়ায় আসীন হয়েই স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

উৎসব ও বিসর্জন পর্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঘাট এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টহল এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ঘাট এলাকায় কড়া নজরদারি দেখা যায়। পুণ্যার্থীরা ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিমা নিয়ে শীতলক্ষ্যার পাড়ে সমবেত হন।

এ বছর নারায়ণগঞ্জ পুরো জেলায় মোট ২৪০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি মণ্ডপ আলোকসজ্জা ও বাহারি কারুকার্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। উৎসব চলাকালীন পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ছিল কঠোর ব্যবস্থা। পূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন জানান, নারায়ণগঞ্জে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হচ্ছে, যা প্রমাণ করে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। তিনি উল্লেখ করেন, জেলায় ২৪০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটি নারায়ণগঞ্জের অসাম্প্রদায়িক ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। উৎসব সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং নারায়ণগঞ্জবাসীকে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিসর্জন ঘাটে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ রানা, ডা. মজিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শংকর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, সহ-সভাপতি সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাশ, মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই