নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস দীর্ঘ ১৮ দিন পর শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কলেজ প্রশাসন।
রোববার দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক সমঝোতা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব এবং মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান সহ কলেজের শিক্ষক ও তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ছাত্রদল নেতা আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও ছাত্রাবাসটি দ্রুত খুলে দিতে উভয় সংগঠন একমত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ছাত্রাবাসে ফিরে আসতে পারেন এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে তারা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি অমিত হাসান জানান, গত ৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উদ্ভূত সংকট নিরসনে ও অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কলেজ অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যেই ছাত্রাবাস চালুর ব্যাপারে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরবর্তীতে বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার পর সংকট সমাধানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগর নেতাদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একাধিক আলোচনায় বসে, যার ফলশ্রুতিতে রোববার কলেজ প্রশাসনের সাথে এই চূড়ান্ত সমঝোতা হয়।
কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশাল বিদ্যাপীঠে বিভিন্ন সময় মতবিরোধ সৃষ্টি হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব। একাডেমিক কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর নোটিশ জারি করে সোমবার থেকেই ছাত্রাবাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকল রাজনৈতিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে তোলারাম কলেজ প্রশাসন।