নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কাশিপুর হাটখোলা সমাজ উন্নয়ন সংসদের সভা থেকে কাশিপুর মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বাদ এশা আয়োজিত এক সভা থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী,ও আলেম ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষকরা এ অভিযোগ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, মাদ্রাসার আমানত ও তহবিলের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী শিক্ষক ও স্থানীয়দের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে মিটিং না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্রটি বহিরাগত ও অপরিচিত লোকজন নিয়ে অন ভাবে মাদ্রাসায় সভা আহ্বান করে। খবর পেয়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং পরিস্থিতির খোঁজ নিতে গেলে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও আলেম প্রতিনিধি জানান, আমরা মাদ্রাসার শিক্ষক, স্থানীয় প্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ মানুষদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের ৩-৪ জন শিক্ষক ও প্রতিনিধি গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয়, কিন্তু তাঁরা বিষয়টি থামানোর কোনো চেষ্টা করেননি; বরং হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমজাদ শিকদার, দুলাল, ইলিয়াস কামাল, আলামিন, শাহিন, রতন ও আমানের নেতৃত্বে এ হামলা সংগঠিত হয়।
এলাকাবাসীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের প্রতি কোনো সহিংস পাল্টা পদক্ষেপে না গিয়ে সামাজিকভাবে ও আইনগতভাবে বিচার দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, মাদ্রাসার ফান্ডের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিকাশ প্রকাশ এবং অপেশাদার ও আক্রমণাত্মক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের কমিটি থেকে অবিলম্বে অপসারণের জোরালো দাবি তোলা হয়।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।