নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার পুনর্বাসনের এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও হকারদের স্থায়ী সুবিধার্থে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা ও যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুটপাত খালি করার অংশ হিসেবে হকারদের অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করতে শহরের চাষাঢ়া রেললাইন সংলগ্ন খালি স্থানটি এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে পসরা সাজিয়ে বসা হকারদের পর্যায়ক্রমে এই নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। এতে করে সাধারণ পথচারী ও নগরবাসী যেমন দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি হকারদের জন্যও একটি নির্দিষ্ট কেনাকাটার পরিবেশ তৈরি হবে।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ করতে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত হকার সনাক্তকরণের কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। সোমবার বিকালে বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও নগরীর চাষাঢ়া প্রেসক্লাব এলাকায় ফুটপাতে বসা হকারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, নাম এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহের কাজ চালাতে দেখা যায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের।
এ সময় তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মাসুদ রানা লাল, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল পাল এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুপারভাইজার মো. আল আমিন।
কর্মকর্তারা জানান, তথ্য সংগ্রহের পর সংগৃহীত কাগজপত্র নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে, যেন কোনো ভুয়া ব্যক্তি সুবিধা না নিতে পারে এবং কেবল প্রকৃত হকারদেরই নতুন নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ করে দেওয়া যায়। তারা আরও জানান, পুরো শহরে একযোগে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে এই তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মোট ৭টি পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে, যারা বর্তমানে সরেজমিনে কাজ পরিচালনা করছে। এই সকল তথ্যাদি দ্রুত প্রক্রিয়া করার মাধ্যমে শিগগিরই প্রকৃত হকারদের পুনর্বাসনের মূল কাজ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।