নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে চরম উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের টকশোতে অংশগ্রহণ করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জনপ্রিয় নেতা জাকির খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে টিপুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকেই জাকির খানের অনুসারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
টিপুর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার রাজনৈতিক যোগ্যতা ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাকির খানের অনুসারীরা। এ ইস্যুতে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ ইরফান ভূঁইয়া এক কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিবাদ জানিয়ে ইরফান ভূঁইয়া বলেন, জাকির খানের মতো একজন জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত নেতাকে নিয়ে কথা বলার মতো কোনো রাজনৈতিক যোগ্যতাই অ্যাডভোকেট টিপুর নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাকির খানের অবদান ও অবস্থান সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব ভালোভাবেই অবহিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাকির খানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং নিজের সন্তানের মতো দেখতেন। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছিলেন, “তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর মতোই জাকির খানও আমার আরেকটি সন্তান।” ইরফান ভূঁইয়ার মতে, এসব ইতিহাস ও দলীয় আবেগ সম্পর্কে টিপুর কোনো সম্যক ধারণা নেই। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তিনি মূলত আদার বেপারী, তাই জাহাজের খবর তিনি কীভাবে রাখবেন! অজ্ঞতার কারণেই তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে আবল-তাবল বক্তব্য দিচ্ছেন।”
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে এই তরুণ নেতা বলেন, “গোটা নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের যে বিপুল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, তার মধ্য থেকে কেবল সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীরাই যদি মাঠে নামে, তবে টিপু সাহেবের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই এখনও সময় আছে, নিজের মুখে লাগাম টেনে কথা বলুন।”
রাজনীতিতে শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি কঠোর কণ্ঠে সতর্ক করেন, “রাজনৈতিক শিষ্টাচার একেবারে ভুলে যাবেন না। আপনি যদি সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে জাকির খানের হাজার হাজার কর্মীও শিষ্টাচার ভুলে যেতে বাধ্য হবে—আর তখন আপনার পক্ষে নিজের সম্মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে আমাদের নেতা, গণমানুষের নেতা জাকির খানকে নিয়ে কথা বলার আগে অন্তত দশবার ভেবে কথা বলবেন।”
উল্লেখ্য, টকশোতে টিপুর করা বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জাকির খানের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ফুঁসে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়নগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিবাদ ও অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।