মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

চাঁদাবাজিমুক্ত ডিজিটাল মহাসড়কই আমাদের লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুরু হলো এআই যুগের সূচনা

সিটি নিউজ / ১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। সড়কে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগের সার্বিক গুরুত্ব ও সুফল তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার ফলে মহাসড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের সরাসরি হস্তক্ষেত্রের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে। এতে করে অনিয়ম ও আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হবে। এছাড়া, মহাসড়কে বিভিন্ন সময় ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরসনে এবং যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা বিধানে এই এআই প্রযুক্তি অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে গৃহীত এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেটের মধ্যবর্তী ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সর্বমোট ১ হাজার ৪ ২৭টি সর্বাধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিকভাবে মহাসড়কে নজরদারি চালাবে। নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানো, যেখানে-সেখানে অবৈধভাবে পার্কিং করা, নির্ধারিত লেন মেনে না চলা, বিপজ্জনকভাবে উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং মহাসড়কে চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থ্রি-হুইলার ও ধীরগতির যানবাহন চালানোর মতো ঘটনাগুলো সরাসরি এই এআই ক্যামেরায় ধরা পড়বে। কোনো যানবাহন আইন অমান্য করা মাত্রই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগৃহীত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংকেত ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাবে, যার ভিত্তিতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, রাস্তায় এআই ক্যামেরা এবং স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালুর ফলে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি দীর্ঘমেয়াদী সুবাতাস বইবে। চালকদের ওপর পুলিশি পাহারা না থাকলেও সর্বক্ষণ প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ বজায় থাকবে, যা পরবর্তীতে চালকদের মানসিকতায় আইন মেনে চলার এক ধরনের সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলবে। এই প্রযুক্তিনির্ভর শৃঙ্খলার কারণে একদিকে যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া, হাইওয়ে পুলিশের এই উদ্যোগের পাশাপাশি জেলা পুলিশের আওতাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এই এআই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

সড়কে শৃঙ্খলা ও গতি ফেরানোর এই আধুনিক পদক্ষেপকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক এবং মালিকেরা। তারা মনে করেন, রাস্তায় আইনের প্রয়োগ যদি সবার জন্য সমান ও স্বচ্ছ হয়, তবে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি দূর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তবে এর পাশাপাশি মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত থ্রি-হুইলার এবং ধীরগতির বিপজ্জনক যানবাহনের প্রবেশ পুরোপুরি ও কঠোরভাবে বন্ধ করার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্যামেরা বা আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করলেই শতভাগ সফলতা পাওয়া যাবে না; বরং এই এআই ব্যবস্থার সুফল পেতে হলে এর নিয়মিত তদারকি ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিকভাবে এটি চালুর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থার নতুন রূপরেখা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই