আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা।
সভায় জেলা প্রশাসক জানান, এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০টিতে। মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জনের সময় পর্যন্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারের বরাদ্দকৃত অনুদান যেন প্রতিটি মণ্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছায়, সে বিষয়েও তিনি তাগিদ দেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রেখে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত চর্চা ধরে রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরানো বা এডিটেড ভিডিও ব্যবহার করে কেউ যদি গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, পূজা চলাকালে প্রতিটি মণ্ডপে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং এবং মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ তাঁদের নানা দাবি-দাওয়া ও পরামর্শ তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।