বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

অবমূল্যায়নের বেদনায় জাকির খান ভক্ত খোকন

সিটি নিউজ / ৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

“রাজনীতিতে যখন কোনো লাভ-ক্ষতির হিসাব ছিল না, দল ক্ষমতায় আসবে কি না কিংবা প্রিয় নেতা কখনো ফিরবেন কি না- এমন ঘোর অনিশ্চয়তার দিনেও যিনি জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা শ্রমিক দলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ খোকন। খোকন কেবল একজন স্থানীয় নেতাই নন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একজন পরম অনুগত ও ‘পাগল ভক্ত’ হিসেবে পরিচিত।

খোকন নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের দুর্গে দাঁড়িয়ে রাজনীতির সাহস দেখিয়েছিলেন। শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকনের প্রতিবেশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। ওসমান পরিবারের সেই প্রতাপশালী প্রভাব ও রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসেই জিয়ার আদর্শ ও খালেদা জিয়ার স্লোগান তুলেছেন তিনি। কোনো আপস করেননি, বরং উল্টো বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলেছেন।।

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সাবেক শাসকদলের হামলা-মামলা ও প্রশাসনের তীব্র চাপের মুখেও খোকনের কণ্ঠ থামানো যায়নি। জাকির খানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিটি মিছিলে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। পুলিশের টিয়ারশেল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কিংবা গ্রেফতার আতঙ্ক—সব উপেক্ষা করে ‘জাকির খান’ ব্যানারে সোচ্চার থেকেছেন সবসময়।

তবে রাজনীতির হাওয়া বদলাতেই বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। রাজপথের রক্ত ও ঘাম ঝরানো সেই ত্যাগী কর্মীরাই আজ অবমূল্যায়নের শিকার। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ক্ষোভ, যারা দুঃসময়ে দূরে ছিলেন, সেই সুবিধাবাদী ও ‘হাইব্রিড’ নেতাদের আজ শীর্ষ নেতাদের পাশে দেখা যাচ্ছে। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলকে আগলে রাখা খোকনের মতো যোদ্ধারা রয়ে গেছেন আড়ালে।

এ বিষয়ে খোকন বলেন, “আমাদের লড়াইটা কখনোই পদ- পদবি বা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য ছিল না। দল ও প্রিয় নেতা জাকির খানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা ‘জাকির খান’ ব্যানারে আন্দোলন সফল করেছি। আজ রাজপথের রক্ত ও ঘামঝরা কর্মীদের যখন আড়ালে চলে যেতে হয় এবং হাইব্রিডদের উত্থান ঘটে, তখন কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে দল ও জাকির ভাইয়ের ওপর আমার বিশ্বাস ছিল, আছে এবং থাকবে।”

নারায়ণগঞ্জের সচেতন রাজনৈতিক মহলের মতে, একটি রাজনৈতিক দল যখন রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য দেয়, তখন দলের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আজ যারা রাজনীতিতে সুবিধা লুটছে, তাদের অনেকেই দুঃসময়ে মাঠে ছিল না। খোকনের মতো মাঠপর্যায়ের বিশ্বস্ত ও ত্যাগী যোদ্ধাদের যদি সঠিক মূল্যায়ন করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্ম ও সত্যিকারের দলের অনুগত কর্মীরা রাজপথে নামার অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলবে। ত্যাগীদের যথাযথ সম্মান ও স্থান দিলেই রাজনীতিতে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই