নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আত্মপ্রকাশের বিষয়ে অবহিতকরণ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় তাদের সম্পৃক্ত রাখা এবং একাধিক স্থানীয় সনাতন ধর্মীয় ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে স্মারকলিপিগুলো হস্তান্তর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আহ্বায়ক মানিক চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন প্রকল্প এবং শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস্ মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজিত জন্মাষ্টমী, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ যেকোনো সরকারি বা প্রশাসনিক সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদকে অবগতপত্র প্রেরণ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা আবশ্যক।
সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ শুধু স্থানীয় বা জাতীয়পর্যায়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সনাতন তীর্থস্থান। তাই এই তীর্থক্ষেত্রের উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা প্রকল্পের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানান।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস্ শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া, এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মন্দিরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সদস্য সচিব গোপাল চন্দ্র মণ্ডল, যুগ্ম সদস্য সচিব তন্ময় মহন্ত, সদস্য রঞ্জিত দাস, সঞ্জীব মণ্ডল, সজীব দাস এবং সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। পরিষদের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস্ মন্দিরের সুরক্ষায় স্থায়ীরূপ আসবে।