দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জ শহরের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. জামাল (৪০) হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জুকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সহযোগী আকাশ আহম্মেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু (৪৪) নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের কবির হোসেনের ছেলে। তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আকাশ আহম্মেদ (৩৭) সিলেটের বিয়ানীবাজারের শরিফ আহম্মেদের ছেলে। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আরাফাত খান ওরফে শান্ত (৩৭) ও মো. খোকন মিয়া (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্ত গালপোড়া রঞ্জু নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি হত্যা, লাশ গুম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আজিজুল হক জানান, “দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আজমেরী ওসমানের অনুসারী ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত চারজন আসামির সবাই পলাতক ছিলেন।”
উল্লেখ্য, আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমান অভিযুক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই চাঁদপুর মতলবের বাসিন্দা ও ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকার ভাড়াটিয়া সিএনজি চালক মো. জামাল নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার।
পরবর্তীতে র্যা বের হস্তক্ষেপে ১৭ জুলাই অপহৃত জামালের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খোকন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় গালপোড়া রঞ্জু, আকাশ আহম্মেদ ও শান্তকে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর (১৮ জুলাই) শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ডাস্টবিন থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারকাজ সম্পন্ন করে অবশেষে আজ এই রায় ঘোষিত হলো।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, মামলার আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছেন।