নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন গলাচিপা এলাকায় নিজ উপার্জনে কেনা জমিতে গড়া দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: রহমতউল্লাহ (৫৫) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ভাই, আত্মীয়স্বজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, ভুক্তভোগীর বড় ভাই লালু, বড় ভাই আরদ চান, ছোট বোন বিউটি, লালুর ছেলে ফাহিম, বিউটির মেয়ে মিমি এবং মিমির স্বামী রানা। এরা সকলেই একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রহমতউল্লাহ পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিবাদে না গিয়ে বাবার দেওয়া জমি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের উপার্জিত টাকায় গলাচিপা এলাকায় আড়াই (২.৫) শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমির যাবতীয় বৈধ দলিলাদি, স্ট্যাম্প, নামজারি ও মিউটেশন তার নামেই রয়েছে। কিন্তু উক্ত জমির ওপর কু-নজর পড়ে অভিযুক্তদের।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এক সালিশ বৈঠকে পুলিশ প্রশাসন রহমতউল্লাহর যাবতীয় কাগজপত্র দেখে জমির মালিকানা তার বলেই নিশ্চিত করেন। তবে থানার সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তরা জমি দখলের চক্রান্ত চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত ১ থেকে ৫-এর নির্দেশে ও প্ররোচনায়, ৬নং অভিযুক্ত রানা বাহির থেকে ২০-৩০ জনের একটি ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রহমতউল্লাহর গলাচিপাস্থ দোকানপাটে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানে থাকা মালপত্র, আসবাবপত্র ও চালের টিন ভেঙে ছত্রখান করে দেয়। রহমতউল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের ভেতর থেকে মালামাল টেনে-হেঁচড়ে বাইরে ফেলে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
ভাঙচুর ও হামলার সময় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ’৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশ প্রশাসনের আইনী সহায়তা কামনা করেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সত্যতা দেখতে পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ উভয় পক্ষকেই তাদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় বৈধ কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করে।
এদিকে হামলায় গুরুতর আহত রহমতউল্লাহকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও বেপরোয়া প্রকৃতির হওয়ায় তারা এখনো আশপাশে অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে রহমতউল্লাহ ও তার পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।