মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

দেশে ফিরলেন যুবদলের ত্যাগী নেতা দেলোয়ার শাহ্, বিমানবন্দরের নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

সিটি নিউজ / ৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

অবশেষে সুদূর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন শাহ্। সোমবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ১১টার ফ্লাইটে তিনি দেশের মাটিতে পাঁ রাখেন।

এদিকে ঢাকা হযরত শাহ্জালাল (রহঃ) আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে তার ফ্লাইটটি অবতরণ করার পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় তার শত শত নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মী ও অনুসারীরা দীর্ঘদিন পর তাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় যুবদল নেতা দেলোয়ার তাদেরকে বুকে জড়িয়ে বলেন, “আপনাদের জন্যইতো দেশে ফিরেছি। আপনাদের ভালোবাসার টানে সেই মালয়েশিয়া থেকে ছুটে এসেছি। এখন কান্নার সময় নয়, কাজ করার সময়। আপনাদের সবাইকে নিয়েই বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশগড়ার কাজে অংশিদার হবো।”

এর আগে গত দুই বছর পূর্বে অনেকটা বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়েন এ যুবদল নেতা। মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে তিনি একাধীক মামলা ও বহুবার হামলার শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুঁপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এত নির্যাতন-নিপীড়ন কাঁধে নিয়েও শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দল ও তার নেতা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে ভালোবেসে দীর্ঘ বহুবছর রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সর্বদা রাজপথে থেকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলেছেন। পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে ‘খালেদা-জিয়া, জিয়া-খালেদা’ সহ বিভিন্ন আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছেন। কিন্তু সবশেষ তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও প্রশাসন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাকে গুম করার মত পরিকল্পনা করা হলে পরিবারের অনুরোধে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই থেকে তিনি বিদেশেই ছিলেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে থাকলেও আন্দোলন থেকে তাকে দূরে রাখা যায়নি।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। প্রায় প্রতিদিন হাসিনা সরকারে বিরুদ্ধে একের পর এক পোষ্ট দিয়ে সেই আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার নির্দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণও করেন। এভাবে তিনি সুদূর মালয়েশিয়ায় থেকেও চব্বিশের গণ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

সোমবার সেই নেতার আগমনে তার অনুসারীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তারা বিশাল গাড়ী বহরে করে প্রিয় নেতা দেলোয়ার হোসেন শাহ্’কে বিমানবন্দরে আনতে যান। দেলোয়ার শাহ্ দেশের মাটিতে পাঁ রাখার পর তার অনুসারীরা একের পর এক ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করেন নেন। এসময় অনুসারীরা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়লে তিনিও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বুকে জড়িয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আলিঙ্গণ করেন। এরপর চোঁখ মুছে অনুসারীরা তাকে ফুলেল তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।

এরপর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন যুবদল নেতা দেলোয়ার। তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকেই দেখছি দলে একটা হাইব্রিডদের উত্থান হওয়া শুরু করেছে। যারফলে আমার দুঃসময়ের যে নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলো, হাইব্রিডদের কারণে তারা আজ কথা বলতে পারছেনা। ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। তাই ত্যাগী নেতাকর্মীদের হাহাকার শুনে আমাকে আজ দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। আমাকে ফিরে আসতে সহযোগীতা করেছে আমার নেতা জাকির খান, কাশেম ভাই, মাঈনুদ্দিন ভাই ও ছোট ভাই চঞ্চল। আমি তাদের কথা কোনদিনও ভুলবো না।

 

আরও পড়ুন: জাকির খান খালাস পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় দেলোয়ার শাহ্’র শুকরানা দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আসলে আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী দ্বারা দেশে আমি কি পরিমান নির্যাতিত হয়েছি সেটা আপনারা যারা মিডিয়াকর্মী আছেন, তারা সবাই জানেন। আমাকে কয়েক দফা মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। আর মামলার-হামলার কথা কি আর বলবো। দেশে এমন একটা পরিস্থিতি ছিলো যে, বিএনপির নাম নিলেই মামলা খেতে হতো। তবে এত মামলা-হামলা করেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। জুলম-নির্যাতন কোনদিনই বেশিদিন টিকতে পারেনা।

তিনি বলেন, আমি বিদেশী ছিলাম সত্য কিন্তু দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে আমাকে আলাদা করতে পারেনি। আমি বিভিন্ন মাধ্যমে সকল আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলাম। দেলোয়ার আরও বলেন, আমি আজকের এদিনে চব্বিশের সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আসলে চব্বিশকে ভুলে যাওয়া যাবে না, কিন্তু একাত্তোরকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। একাত্তোর একাত্তোরই আর চব্বিশ চব্বিশই, কারো সাথে কারোর তুলনা হয় না। সবশেষ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশের সকল মুসলিম উম্মাদের শুভেচ্ছা জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই