নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং শ্রমিক সংগঠন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুর হাটখোলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল-আমিন সম্প্রতি এক বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং কাশিপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক সাব্বির আহম্মেদ শহীদকে ‘ডাকাত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমপি দাবি করেছেন— শহীদের কথিত অত্যাচারে তিনি অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। এমপির এমন মন্তব্যের পর থেকেই স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে সাব্বির আহম্মেদ শহীদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করার চেষ্টা করেছিলেন এমপি আল আমিন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি মনে ক্ষুণ্ণ হন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, “এমপি মনে করছেন শহীদকে চাপের মুখে রাখতে পারলে তার নিজস্ব লোকবল দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা সহজ হবে। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিল করতেই এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সংসদ সদস্যের প্রতি সুনির্দিষ্ট প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে তারা এমপির কাছে জানতে চেয়েছেন— সাব্বির আহম্মেদ শহীদ কোথায়, কবে, কোন বাড়িতে ডাকাতি করেছেন? এই ডাকাতির ঘটনায় কোনো থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তার প্রমাণ এমপিকে হাজির করতে হবে।
তারা আরও বলেন, “যদি আপনি প্রমাণ দিতে না পারেন, তবে কার শিখানো কথায় আপনি একজন সমাজসেবকের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছেন, তা জনগণকে জানাতে হবে। আপনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের কর্ণধার; আপনার কথার যদি শালীনতা না থাকে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবো?”
উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সোহেল মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।