নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সর্বদা কাজের মাধ্যমে নিজেকে জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চান।
শনিবার (১১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেতু প্রকল্প এবং শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা বক্তব্য প্রদান করেন।
সেতু নির্মাণের পেছনের দীর্ঘ ইতিহাস ও নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দিকে যখন আমরা এই প্রকল্পটা হাতে নেই, তখন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল যে— আমি নাকি নিজের বাড়ি যাওয়ার সুবিধার্থে এই ব্রিজটিকে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাটে নিয়ে যাচ্ছি।” তিনি জানান, তৎকালীন সময়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল যে টার্মিনাল ঘাটটিই ছিল প্রধান কেন্দ্র, যেখান দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির কারণে পুনর্বাসন খরচ ব্রিজের মূল নির্মাণ খরচের চেয়েও অনেক বেশি দাঁড়িয়েছিল, যা ছিল একপ্রকার অবাস্তব।
এমপি আবুল কালাম আরও বলেন, পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সৌদি অনুদানের অর্থায়নে এই ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হীনম্মন্যতার কারণে সেই অর্থ ও প্রকল্প পরবর্তীতে সৈয়দপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জনগণের চাহিদাকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো, তবে তৎকালীন সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ঘাটের উদ্যোগটি তখনই পূর্ণতা পেতে পারত।
বর্তমানে ৫ নম্বর ঘাটে চলমান সেতু নির্মাণ কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ব্রিজের কারণে পশ্চিম পাড়ের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি। কিন্তু অপর পাড়ের মানুষ কেন আজ রাজপথে নেমেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন যদি আবার ব্রিজের ডাইমেনশন বা নকশা পরিবর্তন করতে হয়, তবে পুরো প্রকল্প রিভাইজ করতে হবে, যা অনেক সময়সাপেক্ষ এবং হাতের নাগালে আসা একটি উন্নয়ন কাজকে আবার আটকে দেওয়ার শামিল হবে।
শহরের ভবিষ্যৎ যানজট পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি পঞ্চবটী ফ্লাইওভারের উদাহরণ টেনে বলেন, বর্তমান পরিকল্পনায় এক নম্বর ও দুই নম্বর রেলগেট পার হয়ে ব্রিজের সংযোগ সড়ক যখন বিবি রোডের ওপর দিয়ে আসবে, তখন শহরের প্রবেশ ও বাহির— দুই পথই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সঠিক দূরদর্শিতার অভাব থাকলে আগামী দিনে এই সেতুটি যানজটের এক বিশাল অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি সকলকে সতর্ক করে দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সেসব সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন। জবাবে এডভোকেট আবুল কালাম পর্যায়ক্রমে