প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনস্থ অডিটোরিয়ামে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে এবং প্রশাসকের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান।
প্রধান অতিথি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা, কাজের প্রতি সততা এবং কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন।
তিনি বলেন,”আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্দেশ্য হলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করা। আর এই নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আপনারা যারা আজ আমার সামনে উপস্থিত আছেন, তারা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।”
প্রশাসক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের প্রশংসা করে বলেন: “প্রত্যেক ধর্মেই একটি মৌলিক শিক্ষা রয়েছে—”প্রত্যেক ধর্মেই একটি মৌলিক শিক্ষা রয়েছে—যেকোনো কাজ করে হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। আপনাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত পবিত্র। আপনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই সাম্প্রতিক ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পরও নারায়ণগঞ্জ শহরের মূল রাস্তাগুলোকে আমরা জলজট মুক্ত রাখতে পেরেছি এবং নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে পেরেছি। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ।”
প্রশংসার পাশাপাশি প্রশাসক কিছু অভিযোগ ও কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে সাখাওয়াত বলেন, “আমি নিজেই ভোর ৬টায় একা রিকশায় চড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমি লক্ষ্য করেছি যে শহরকে বর্জ্যমুক্ত করার দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে পীড়িত করেছে।”
নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা কাউকে চাকরিচ্যুত করতে চাই না। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—যাঁরা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। পরবর্তীতে এর জন্য কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা যাবে না। কারণ আমরা আগেই সতর্ক করে দিচ্ছি।”
তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আপনারা জনগণের পক্ষে থাকুন, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুস্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলুন। আপনারা ভালো কাজ করলে যেমন আমাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তেমনি আপনাদের মুখও উজ্জ্বল হবে। আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সিটি কর্পোরেশন সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। আপনাদের নিয়ে আমরা এই বিভাগটিকে আরও উন্নত, সুন্দর ও যুগোপযোগী করে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের কল্যাণের দিকেও আমাদের পূর্ণ নজর থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, সাবেক কমিশনার দিলারা মাসুদ ময়না, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।