মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাক শিল্পে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কাটিয়ে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। কারখানাগুলোতে পুরোদমে চলছে উৎপাদন কাজ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পোশাক খাতের পরিস্থিতি সরাসরি পরিদর্শনে মাঠে নামেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা পঞ্চবটি বিসিক, শিবু মার্কেট, ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, সানারপাড় ও আদমজী ইপিজেডসহ জেলার প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, আজকের নারায়ণগঞ্জে কোনো ধরনের শ্রমিক আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পর পর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা। শ্রমিকদের প্রতিনিধি দলের নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় বোর্ড গঠনে সামান্য সময় লাগলেও ইতোমধ্যে সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং এর প্রথম সভাও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
বর্তমান মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে আগামী **১ জানুয়ারি ২০২৭** থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে বলে তিনি জানান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও শিল্পের সুরক্ষায় স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে ডিসি কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমাদের সদস্যরা অত্যন্ত সংযম ও ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যেন অপ্রয়োজনে কোনো বলপ্রয়োগ না করা হয়। পুলিশ সদস্যরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখানো হয়েছে।”
তবে শান্ত পরিবেশের সুযোগ নিয়ে যারা কারখানায় ভাঙচুর, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, সেই অপরাধী চক্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ সুপার।
বর্তমানে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।