পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো তৃতীয় পক্ষ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকালে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক হোসেন বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য বিবেচনায় তাদের দাবি যৌক্তিক হলেও রাজপথে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ বা জানমালের ক্ষতি কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের উসকানিতে পড়ে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে সংকটে না ফেলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, আন্দোলনের আড়ালে একটি তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, সাধারণ নিরীহ পোশাক শ্রমিকরা এই জ্বালাও-পোড়াও বা ভাঙচুরের সাথে যুক্ত নন; বাইরের একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শ্রমিকদের ওপর দোষ চাপানোর পাঁয়তারা করছে।
মালিকপক্ষ ও সংগঠনগুলোর (যেমন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ) উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই এই শিল্প দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই শ্রমিকরা যাতে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারেন, সে অনুযায়ী একটি সহনীয় মজুরি নির্ধারণের জন্য মালিকপক্ষ ও সরকারকে একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা মালিক বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে আগে থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কোনো তথ্য জানায় না। ফলে রাস্তায় বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগে উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মালিকপক্ষ ও প্রশাসন আগে থেকে তথ্য দিলে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে ফারুক হোসেন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা কোনো গুজবে কান দেবেন না এবং উসকানিতে পা দেবেন না। সরকারের ওপর ও আপনাদের নেতৃবৃন্দের ওপর আস্থা রাখুন। আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিক ভাইদের ন্যায্য ও যৌক্তিক পাওনা নিশ্চিত করা হবে।”
এসময় মহানগর শ্রমকি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: সেলিম, সদস্য আব্দুল মতিন ভূইয়া, বিল্লাল হোসেন, আল আমিন, জামাল, অলিক, আজিম সরদার, মানিক, শাহীন, জাহাঙ্গীর প্রমূখ।