নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্রিজ নির্মাণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকা রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের চারারগোপ এলাকায় কদম রসুল সেতু নির্মাণস্থলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রশাসক জানান, নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী হিসেবে যেমন কদম রসুল ব্রিজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ব্রিজের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনের বিষয়ে তিনি জানান, নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে ইতিবাচক চিঠি পাঠিয়েছে। ফলে জমি নিয়ে এখন আর কোনো বিরোধ নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিজের পাশে বা পেছনে থাকা রেলওয়ের খালি জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সেতুর কাজ শেষ হলে তাদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। ভবিষ্যতে ব্রিজের নিচের খালি জায়গাটিকেও সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে নাসিক প্রশাসক নিশ্চিত করেন যে, উচ্ছেদ কার্যক্রমে কোনো মসজিদ ভাঙা পড়বে না এবং মন্দিরের মূল কাঠামোও অক্ষত থাকবে। প্রয়োজনে মন্দির অন্য দিকে সম্প্রসারণের সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে। তবে রাস্তার মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গড়ে তোলা একটি কথিত মাজার সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো কবর নেই এবং সেটির ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সর্বোপরি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরিবার-পরিজনদের কথা বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহনশীলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। উক্ত পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, নাসিক-এর প্রধান প্রকৌশলী আজগর হোসেনসহ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।