‘মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদ। তবে এ ষড়যন্ত্র বেশিদিন টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ হচ্ছে মহানগর যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মী বিশেষ করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের প্রাণ। সেখানে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানে গোটা যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রাণে আঘাত করা। এটা কোনভাবেই যুবদলের নেতাকর্মীরা মেনে নিবে না। তারা এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে গণমাধ্যমকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাঈদ বলেন, মাজহারুল ইসলাম জোসেফ শুধু একটি নামই নয়, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ যুবসমাজের অহংকার। তিনি যুবসমাজের যে কোন বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি অত্যান্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের পাশে ছায়ার মত থেকেছেন। সেজন্য মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে ভীষণ পছন্দ করেন। তার মত একজন ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ও কর্মীবান্ধব নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের এ ধরনের বিবৃতি তৃণমূল কখনোই আশা করে না। আমরা মনে করি, মহানগর যুবদলকে বিভক্ত করার জন্য এবং বিএনপির এ শক্তিকে দুর্বল করার জন্য এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। যারা চায় না বিএনপি ঘুড়ে দাঁড়াক, শক্তিশালী হোক তারাই মূলত কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে এ বিবৃতি দিতে বাধ্য করেছেন।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ রেখে যুবদলের এই ত্যাগী নেতা আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো, আপনারা যুবদলের নীতিনির্ধারক। আপনাদের কাছে অনেকেই অভিযোগ করবে, অনুরোধ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অভিযোগের কতটা সত্যতা আছে তা যাচাই করা খুবই প্রয়োজন। কারণ, কেউ আছে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে, আবার কেউ রাজনৈতিকভাবে পেরে উঠতে না পেরে প্রতিদ্বন্দ্বিকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে আপনাদের কাছে একটি মিথ্যে বানোয়াট অভিযোগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে একটু সর্তক থেকে যদি তদন্তের সহিত সিদ্ধান্তটা নেয়া যায়, তাহলে মনেহয় তা দলের জন্যই ভালো হবে। কারণ, আমরা চাই না আর কোন ভুল সিদ্ধান্তে আমাদের মত তৃণমূল কষ্ট পাক। কারণ, হরফ করে বলতে পারি নারায়ণগঞ্জ যুবদলের আইকন মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বিরুদ্ধে অভিযোগটা ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটা শুধু তার উপরই নয়, আমরা মনে করে গোটা মহানগর যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর অবিচার করা হয়েছে। আমরা কেন্দ্রকে এ বিষয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি সে অপরাধী হয়, তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই। আর যদি সে অপরাধী না হয়, তাহলে যারা তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে আমরা তাদের বহিস্কার চাই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ কখনোই নিজেকে মহানগর যুবদলের কমিটির মেম্বার হিসেবেও দাবি করেন নি। অথচ, তাকে বলা হলো ‘তিনি যুবদলের কেউ না।’ এটা কি হাস্যোকর নয়? আসলে মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বিশাল জনপ্রিয়তায় ঈর্শন্বিত হয়েই একটি মহল কেন্দ্রকে দিয়ে এমন বিবৃতি দেইয়েছে। যা সত্যিই দু:খজনক। আরে ভাই, পিছন থেকে ষড়যন্ত্র করে লাভ কি? আমরাতো পুলিশের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছি, মৃত্যুকে ভয় করিনি। সুতরাং যদি সাহস থাকে সামনে আসুন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ দেখুক মহানগর যুবদলে কে বেশি জনপ্রিয় নেতা? আপনারা নাকি জোসেফ? তাই বলছি ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। আপনারাও বিএনপি করেন, আমরাও বিএনপি করি। আসুন দলের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা একসাথে বিএনপির রাজনীতিটা করি। দলকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলি।
সর্বশেষ সাঈদ বলেন, আসলে মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে যারা ষড়যন্ত্র করছেন। তারা সফল হবে না। জোসেফ মাঠে ছিলো মাঠেই থাকবে। ইনশাআল্লাহ্, শেষ হাসি জোসেফই হাসবে।