নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ র্যালি করে রীতিমত নগরবাসীকে তাক্ লাগিয়ে দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়নটির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ শহীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা সদর থানা যুবদল নেতা শিকদার বাপ্পী চিশতী।
শুক্রবার (০১ মে) সকালে মহান মে দিবস উপলক্ষে এই দুই তরুণের নেতৃত্বে নগরীতে বের করা হয় একটি বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি। প্রায় হাজার হাজার শ্রমিক ও মেহেনতি মানুষ এ র্যালিতে অংশগ্রহণ করে।
র্যালিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশাল বিশাল ফ্যাস্টুন, শত শত প্ল্যাকার্ড ও সকল শ্রমিকের মাথায় বাধানো লাল কাপড় র্যালিকে আরও বর্ণিল করে তোলে। এসময় হাজার হাজার শ্রমিকের কন্ঠে ভেসে উঠা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা নগরী।
এসময় বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা বহু বছর ধরে এ শ্রমিক ইউনিয়নের র্যালিতে অংশগ্রহণ করে আসছি। কিন্তু কখনো এত বড় পরিসরে এবং এত সুশৃঙ্খলভাবে র্যালি হতে দেখি নাই। আমার জীবনে যতবার মে দিবসের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম, ততবারই র্যালি করতে ঠিকমত লোক পাওয়া যেতো না। তবুও যাদের নিয়ে র্যালি করা হতো, সেই র্যালিতে আবার চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যেতো। এইবারই প্রথম কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা চোঁখে পড়েনি।
তারা বলেন, আসলে হাজার হাজার শ্রমিকের অংশগ্রহণে এত বড় একটি র্যালির শৃঙ্খলাটা ধরে রাখা কম কথা না। শহীদ-বাপ্পী ভাইয়ের মত সঠিক নেতৃত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আসলে এ র্যালি মধ্যদিয়ে তারা সফলতার প্রমাণ দিয়েছেন।

র্যালিটি নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালীরবাজার শিল্পকলা একাডেমীতে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আলোচনা সভায় গিয়ে যোগদান করে।
এর আগে র্যালিপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহাম্মেদ শহীদ বলেন, আমরা যারা বিএনপির নেতাকর্মী কিংবা সমর্থক ছিলাম বিগত ১৭ বছরে মে দিবস সহ আমরা তেমন কোন দিবস ঠিকমত পালন করতে পারেনি। সেই সময়ে আমাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিত। সেই সময়ে আমাদের তথা শ্রমিক ভাই-বোনদের তেমন কোন স্বাধীনতাই ছিলো না। কিন্তু ৫ আগস্টের আমরা স্বাধীন হয়েছি। আজ আমরা আমাদের মনের মত করে বাধাহীনভাবে সকল দিবস পালন করতে পাচ্ছি। এজন্য আমি প্রথমে মহান আল্লাহ্ তাহালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।
সাংগঠনিক সম্পাদক ওা সদর থানা যুবদল নেতা শিকদার বাপ্পী চিশতী বলেন, আজ আমরা দীর্ঘ সতেরো বছর পর একটি গণতান্ত্রিক ও শ্রমিক বান্ধব সরকার পেয়েছি। যিনি শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলেন তিনি হলেন, তারুণ্যে অহংকার জননেতা তারেক রহমান। আপনারা জানেন, যার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও নিজেকে একজন শ্রমিক বলে দাবি করেছিলেন। সেই সুযোগ্য পিতার সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমান যতদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবে ততদিন শ্রমিকের অধিকার সমুন্নত থাকবে।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান লিটন, সহ-সভাপতি মালেক সরদার, লুৎফর রহমান মন্টু, শহিদুল ইসলাম, শাহজাহান, সালাউদ্দিন; যুগ্ম সম্পাদক আল সামাদ; সহ-সাধারণ সম্পাদক মস্তান প্রধান, খোরশেদ, মো. হারুন, আওলাদ খন্দকার; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাত্তার, হাফিজ উদ্দিন টিটু, কালাম, মাসুদ রানা; কোষাধ্যক্ষ মাহাবুব রহমান; সহ-কোষাধ্যক্ষ সেন্টু হাওলাদার; দপ্তর সম্পাদক রহমত উল্লাহ রাজীব; সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রফিক; প্রচার সম্পাদক পায়েল হোসেন আকাশ; সহ-প্রচার সম্পাদক নাঈম; সমাজকল্যাণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ, ইব্রাহীম; ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আনোয়ার মোল্লা, মোক্তার খন্দকার; আইন ও দরকষাকষি সম্পাদক রবিন খান; সদস্য হান্নান, হামিদ ফয়সাল রাসেল, রাজিব হোসেন ও আকরাম হোসেনসহ আরও অনেকে।