মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবক্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা যুবদল নেতা শিকদার বাপ্পী চিশতী।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি শহীদ জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার মহান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।”
বিবৃতিতে শিকদার বাপ্পী ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমানের বীরোচিত ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, “৭১-এর প্রারম্ভে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বিধা ও সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের মানুষ যখন দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬শে মার্চ মেজর জিয়ার কালূরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র জুগিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে দেশের ছাত্র, যুবক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে।”
পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশীয় শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক শাসনের যাঁতাকলে মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মাটিচাপা দিয়ে নির্মম একদলীয় দুঃশাসন চালু করা হয়েছিল। চলমান সেই অরাজকতার সময়ে সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আবির্ভূত হন এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ জিয়া উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে মুক্ত করে একটি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেম তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণেই দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে কোনো ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে শারীরিকভাবে সরিয়ে দিলেও জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায় না।
বিগত আওয়ামী শাসনের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি নেতা জীবন বলেন, “জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নির্যাতন ও জুলুমকে হাতিয়ার বানিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ষোলো বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। তারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্র-জনতাসহ সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত বছর ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়।”
তিনি পরিশেষে বলেন, জাতীয় জীবনের সকল সংকট ও দেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও সততাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় আমাদের ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।