গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত চার সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে নগরীর সিনামন রেস্টুরেন্টে ১১ দলীয় ঐক্য, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান মল্লিক।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “আবু সাঈদের মৃত্যুর পর জুলাই আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না।” তিনি যাত্রাবাড়ী ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিদেশে চিকিৎসাধীন আহত আন্দোলনকারীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “১৯৭১ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে, আর জুলাই আমাদের অধিকার দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ আন্দোলনের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, তরুণ সমাজ পুরোনো ধারার রাজনীতি চায় না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, “সম্প্রতি জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “জনগণের গণরায় অস্বীকার করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় অনুপস্থিত অনেকেই এখন রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন এবং সরকারকে গণরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, “সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহ-সভাপতি খন্দকার আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মো. আব্দুর রহমান খোকন, ছাত্রনেতা জহিরুল ইসলাম, এনডিএফ সভাপতি ডা. আলী আশরাফ খান, এনসিপি মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম, ওলামা মাশায়েখ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন মনির, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের, মহানগর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মোমিন, মহানগর শিবির সভাপতি অমিত হাসান, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জাকির হোসাইন, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ও সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমান মাসুম এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন এবং সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিন।
সেমিনারের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক যুগান্তরের আল আমিন প্রধান, দৈনিক নয়া দিগন্তের ফটোসাংবাদিক মনিরুল ইসলাম সবুজ, এনএএন টেলিভিশনের মো. শাহজাহান চৌধুরী মাসুম এবং মোবাশ্বের শাওন।