নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন শিবুমার্কেট পূর্বলামাপাড়া এলাকায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘বৈষ্ণব সেবা ও গীতা পাঠ’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
এদিন সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। সকাল থেকেই বৈষ্ণবদের সুমধুর ধর্মীয় গান ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভক্তদের কেউ কেউ ধূপকাঠি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পরমেশ্বরের চরণে ভক্তিপূর্ণ প্রার্থনা নিবেদন করেন। প্রাথমিক পর্ব শেষে শুরু হয় পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ। উপস্থিত ভক্তরা অত্যন্ত মনোযোগ ও ভক্তির সাথে গীতা পাঠ শ্রবণ করেন এবং উলুধ্বনি দেন। অনুষ্ঠান শেষে যথানিয়মে বৈষ্ণবদের মাঝে মহাপ্রসাদ বা সেবা বিতরণ করা হয়।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক নয়ন সাহা। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মে বৈষ্ণব সেবা ও গীতা পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈষ্ণব বা ভগবানের শুদ্ধ ভক্তদের সেবা করাকে স্বয়ং ভগবানের সেবার চেয়েও বড় বলে গণ্য করা হয়। বৈষ্ণবদের প্রতি ভক্তি এবং তাঁদের সঙ্গ মানুষকে আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর গীতা পাঠের মাধ্যমে কেবল জ্ঞান অর্জনই হয় না, বরং এটি মানুষের কর্তব্যকর্ম নির্ধারণ করে এবং ভগবৎপ্রাপ্তির পথ দেখায়। গীতা শ্রবণ বা পাঠ করলে সমস্ত উপনিষদ ও বেদের সারমর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।”
নয়ন সাহা তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, আজ কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই নয়, এর পাশাপাশি দেশ ও জাতির সামগ্রিক মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই আহ্বান জানানো হয়। তিনি বলেন, “আমরা প্রার্থনা করি যাতে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে।”
জনক রায় ও নয়ন সাহার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বিএনপি নেতা শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু, স্মৃতি পাল, অ্যাডভোকেট উত্তম মদক, আকাশ ঘোষ, সত্যজিত পাল সাধু, প্রাণ বল্রব, বিজয় রায় প্রমূখ।