পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুব ঐ ক্য পরিষদ এবং প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থা। ঈদের আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার শতাধিক অসহায় পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যাস্থ শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের প্রাঙ্গণে এ নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আযহার শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার চর্চা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের সাবেক লাইব্রেরিয়ান ও প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান এম এম মোশারফ হোসেন। উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউনেস্কো ইয়ুথ ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান রনি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাতের পরিচালক অরুন দেবনাথ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও প্রভাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনন্দ কুমার সেরাওগী সুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এম মোশারফ হোসেন বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ, ধৈর্য ও মানবতার শিক্ষা দেয়। কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য তখনই বাস্তবায়িত হয়, যখন আমরা সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াই। আজকের এই নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।”
উদ্বোধকের বক্তব্যে লিটন চন্দ্র পাল বলেন, “ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধ। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়েই ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণতা পায়। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, তাহলে সমাজে বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ কামরুজ্জামান রনি বলেন,
“মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সবচেয়ে বড় মানবতা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঈদুল আযহার এই পবিত্র সময়ে নগদ সহায়তা বিতরণের মাধ্যমে আয়োজকরা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “আমাদের সংগঠন সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ যাতে সমাজের কোনো অসহায় মানুষ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই চিন্তা থেকেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও মানবিক, সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলা সভাপতি হরি সাহা, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড সৌরভ দেউরী,মহানগর ঐক্য পরিষদের সহ সভাপতি মনোতোষ হালদার বেনু, বিকাশ সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক অজয় সূত্রধর, তপন চন্দ্র ধর,সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব কুন্ডু,সু্ব্রত কুমার সাহা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জীবন সাহা, জয়ন্ত কুমার সাহা পিংকু, গৌতম দত্ত, গনেশ সাহা, বিপুল পোদ্দার, বন্দর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দাস, যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভজন চন্দ্র দাস, বন্দর উপজেলার সভাপতি তুলশী ঘোষসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।