নারায়ণগঞ্জের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বোস কেবিনে আড্ডা দিতে এসে এক ভিন্নধর্মী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বোস কেবিনে উপস্থিত হয়ে তিনি সেখানে আসা নিয়মিত দর্শনার্থী ও ভোক্তাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আড্ডার একপর্যায়ে কেবিনের আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখে তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তাদের ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ শুরু করলে প্রশাসক নিজেও তাতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী ইফতেখার কায়েস রোমেল জানান, সকালের নাস্তার পর আড্ডার সময় প্রশাসক সেখানে এসে শহরের সার্বিক দিক নিয়ে কথা বলেন। আশপাশের পরিবেশ দেখে তিনি অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতার নির্দেশ দেন এবং বোস কেবিনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে এর পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী মার্কেট মালিকদের নিজ নিজ চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান তিনি। বোস কেবিনের বর্তমান স্বত্বাধিকারী নির্মল চন্দ্র দাস জানান, প্রশাসক মাঝেমধ্যেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এখানে আসেন এবং এদিন পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কেবিন চত্বরে গাছ লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন।
বোস কেবিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই কেবিন নারায়ণগঞ্জের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। অতীতে বহু খ্যাতিমান রাজনৈতিক ও গুণী ব্যক্তিত্ব এখানে এসেছেন এবং আজও মানুষের সমাগম ঘটে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী স্থানের চারপাশের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা নগরবাসী হিসেবে আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রবীণ নেতা জামাল উদ্দিন কালু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯২১ সালে নৃপেণ চন্দ্র বসু (ভুলবাবু) নারায়ণগঞ্জ শহরে এই বিখ্যাত বোস কেবিন প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্রান্তিলগ্নে এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের সময় আন্দোলনের গোপন চিঠিপত্র বোস কেবিনের ঠিকানায় আদান-প্রদান করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এখানে এসে আড্ডায় অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র দাসের পরিচালনায় ‘নিউ বোস কেবিন’ হিসেবে এটি পরিচালিত হচ্ছে।