১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আনোয়ারা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরীর বরফকল এলাকায় অবরোধ পালন করে শ্রমিকরা। এসময় চাষাড়া-শিমরাইল সড়কের কিল্লারপুল থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এতে এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত সাধারণ লোকজন পড়েন দুর্ভোগে এবং বিকল্প পথ ব্যবহার করে নগরীর যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। শনিবার তারা ১১ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পরিপূর্ণ বাৎসরিক অর্জিত ছুটির টাকা পরিশোধ, শতভাগ বোনাস প্রদান, হাজিরা বোনাস চালু, অর্ধবেলা ছুটির জন্য বেতন কর্তন না করা, স্টাফদের শোভন আচরণ নিশ্চিত করা, ঈদের ছুটিতে বেতনভুক্ত ছুটির সুবিধা যুক্ত করা, চাকরির সার্ভিস-সংক্রান্ত সকল পাওনা পরিশোধ, পিস রেট কত শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে তা প্রকাশ, অস্ত্রধারী অ্যাডমিন জাকিরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তাকে কর্মস্থল থেকে বহিষ্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী সকল ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত না করা।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিফ আল তাওহীদ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, মালিকপক্ষ সহ সবার সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
শ্রমিকরা জানান, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা অনড় রয়েছেন। পরে বিকেল চারটার দিকে শিল্প পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা। পরে এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কারখানাটির শ্রমিক আল আমিন বলেন, আমাদের অর্জিত বাৎসরিক ছুটির টাকা অনেক কম দেওয়া হয়। গাজীপুরে ৭৪০০ টাকা দেওয়া হলেও আমাদের দিচ্ছে ৩৫০০ টাকা। এমনকি ঈদের বোনাস বেতনের সমান হওয়ার কথা থাকলেও সেইটাও কম দিচ্ছে। আমরা এর আগেও বিক্ষোভ করেছিলাম, কিন্তু কেউ তাতে পাত্তা দেয়নি। এই কারণে আমরা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হইছি।
এদিকে, শনিবার শ্রমিকরা জেলা প্রশাসন ও বিকেএমইএ’র কাছে ১১ দফা দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে আনোয়ারা গ্রুপের অন্যান্য কারখানার সমান অর্জিত বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধ, মূল বেতনের সমান ঈদ বোনাস এবং দীর্ঘ চাকুরিজীবন শেষ করা শ্রমিকদের সার্ভিস চার্জ পরিশোধ অন্যতম দাবি।
কারখানার শ্রমিকদের নেতৃত্বে দেওয়া ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিউসি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিকেএমএইএ’র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কারখানার শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকরা তাদের ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন। তবে, দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
কারখানার শ্রমিকরা রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ইকবাল।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাজিদুর রহমান জানান, দাবিগুলো নিয়ে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চলছে। কয়েকটি দাবি মালিকপক্ষ মেনেও নিয়েছে। বাকি দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে শ্রমিকরা এই সড়কটি বন্ধ করে রাখায় আমরা বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রেখেছি। পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় তারা কর্মসূচি স্থগিত করে সড়কটি ছেড়ে দেয়।