নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির পদধারী দুই ভাই ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার ঘটনায় দলীয় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং তার আপন ভাই, একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ভাইয়ের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পুরো এলাকা উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। এদিনের সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিল পক্ষের সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ মোট ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দুই ভাই আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিলের এই বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগেও তাদের অনুসারীদের সংঘর্ষের কারণে আষাড়িয়ারচর এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে থানায় মামলাও হয়। এই বিষয়ে আব্দুর রউফের দাবি, দীর্ঘ দুই মাস পর দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ জলিলের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে। অপরদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল জলিলের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তার এক অনুসারীকে একা পেয়ে মারধর করে এবং পরে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু জানান, পূর্বেও তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং একটি তৃতীয় পক্ষ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই কাজ করাচ্ছে। তাই সার্বিক সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে; লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।