জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আমরা ফ্যাসিস্টের জানাজা পড়তে পারিনি। নতুন হেলমেট বাহিনী তৈরি হয়েছে, যা সেই পুরনো ফ্যাসিস্টের মতোই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা বললেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকট এবং বাড়তি বিদ্যুৎ বিল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। আধিপত্যবাদবিরোধী কোনো শক্তি এই আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনার প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশের সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ৩৬ জুলাইয়ের চেতনা ততদিন বেঁচে থাকবে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মূল প্রত্যাশা ছিল বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দূর থেকে ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, তোলারাম কলেজে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের হামলার ঘটনার পেছনে তাদের দলে থাকা সাবেক ছাত্রলীগের লোকজনের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।