বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

ষড়যন্ত্রের শিকার প্রবীণ বিএনপি নেতা হাজী দেলোয়ার, ক্ষোভ

সিটি নিউজ / ১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা। ১৯৯১ সালে ততকালিন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিএনপিতে পর্দাপণ করেন তিনি। সেই সময়ে তিনি গ্রাম সরকারের সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ লাভ করেন। সেই থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে যাত্রা শুরু হয় তার।

বিএনপির রাজনীতি ছাড়াও তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হিসেবেও সর্বমহলে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ খাদ্য ভবনের প্রথম শ্রেণীর একজন ঠিকাদার। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত। তিনি বাগপাড়া আলিম মাদরাসার দাতা সদস্য, বার্মাশীল কবরস্থান ও মসজিদ কমিটি এবং সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটিতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এসব কারণেই বিগত আমলে তিনি বার বার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টার্গেটে পরিনত হয়েছিলেন।

জানাগেছে, বিএনপির করার কারণে বিগত ষোলটি বছর তিনি বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উৎপাতে তিনি ঠিকমত শান্তিতে ঘুমাতেও পারতেন না। বাড়ী ঘরে এসে তারা মামলা-হামলা, গুম-খুনের হুমকি ধমকি দিত নিয়মিত। কিন্তু তবুও কখনো কোনদিন তিনি বিএনপি থেকে বিচ্যুত হননি। একের পর এক ওই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বহু জায়গা জমি দখল করে নিলেও তিনি বিএনপিতে ছিলেন অবিচল। শুধু তিনিই নন, তার পুরো পরিবারই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্দশে বিশ্বাসী। আর তাইতো, বিগত ষোলটি বছর এ পরিবারটি শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে বহু ত্যাগ শিকার করেছেন। বহু হামলা মামলা ও কারানির্যাতনের শিকার হয়েও কখনো আর্দশ বিক্রি করেন নি। দলকে ভালোবেসেছেন একেবারেই অন্তর থেকে। আর তাইতো, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় নামে এ পরিবারটি। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিনরাত ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে গণসংযোগ করেন হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও তার পরিবাদের সদস্যরা। অবশেষে তাদের এ পরিশ্রম স্বার্থক হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বিপুলভোটে বিজয়ী হয়। আজহারুল ইসলাম মান্নান বিজয়ী হওয়ার পর হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নিজ উদ্যোগে এলাকায় মিষ্টিবিতরণ করা হয়। সুতরাং বলতে গেলে, হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার পরিবারের মত এমন লক্ষ লক্ষ পরিবারের ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফলেই বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছে। বিএনপিতে তাদের ত্যাগ সত্যিই অনিসীকার্য। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং এসব ত্যাগী নেতাদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে সেই সব ত্যাগী নেতারাই অনেকাংশে অবহেলিত ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। দলে ত্যাগী নেতাদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে দল থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। দলে ত্যাগীদের চাইতে হাইব্রিডরাই এখন বেশি জায়গা দখল করে আছে। প্রবীণ বিএনপি নেতা হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার বেলায়ও তাই হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রবীণ বিএনপি নেতা হাজী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে আওয়ামী লীগার বানানোর মিশনে নেমেছে স্থানীয় কতিপয় কিছু হাইব্রিড নেতা। তারা এই প্রবীণ নেতাকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে দল থেকে দূরে সরে রাখতে চাচ্ছেন। কারণ, তিনি দলে থাকলে হাইব্রিডরা দলকে ব্যবহার করে অপকর্ম করতে পারবে না। তাই ষড়যন্ত্র করে তাকে দল থেকে সরিয়ে রাখতে চাচ্ছেন তারা। তবে এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দলে ট্যাগের রাজনীতি চলছে। দলকে ধ্বংস করতেই হাইব্রিডরা এ খেলায় মেতে উঠেছে। কারণ, তারাতো দলকে ভালোবাসে না। তারা এসেছেন দলকে ব্যবহার করে শুধু মধু খাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা যখন আসলেন এবং দেখলেন তাদের এ মধু খাওয়ার পথে প্রধান বাধা হলো হাজী দেলোয়ারের মত ত্যাগী নেতারা। তখনই তারা এই ত্যাগী নেতাদের টার্গেট করে ষড়যন্ত্র করা শুরু করে দিলেন। ট্যাগকে তারা মূল অস্ত্র বানিয়ে ত্যাগীদের কোনঠাসা করে দলে নিজেদের একটা শক্তিশালী অবস্থান করতে চাচ্ছে। আপনাদের এ স্বপ্ন কোন দিনও বাস্তবায়ন হবে না। আমরা যারা ত্যাগী নেতাকর্মীরা আছি, আপনাদের সেই স্বপ্ন কোনদিনই পূরণ হতে দেব না।

বিএনপি নেতারা আরও বলেন, আসলে ওই হাইব্রিড নেতাদের কোন আর্দশ নেই। নিজ স্বার্থের জন্য তারা দলকেও বিক্রি করে দিতে পারে। তারা দুর্দিনে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও সুদিনে আবার ঘরে ফিরে। এদেরকে চিহ্নিত করে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া দরকার। নয়তো, দলের ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দিকে যাবে না।

তারা বলেন, আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ করবো, এই ট্যাগের রাজনীতি যারা শুরু করেছেন তাদের কাছ থেকে সর্তক থাকুক। তারা কিন্তু দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কালসাপ। সুযোগ পেলে তারা আপনাকে আমাকে ছোবল মেরে বসবে। আর তখন কিন্তু কিছুই করার থাকবে না। সুতরাং এদের কাছ থেকে সাবধান থাকুন, এদের কথায় কান দিবেন না, এদের ষড়যন্ত্রে অংশীদার হবেন না। পাশাপাশি আমরা আমাদের শীর্ষ নেতাদের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, যে সমস্ত হাইব্রিডরা ট্যাগের রাজনীতির মধ্যদিয়ে দলের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নয়তো, একটা সময় দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই