ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত (২০) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন নারায়ণগঞ্জ নগরীর সুকুমপট্টি এলাকার মো. অনিক (২৭), কাশীপুর এলাকার আকাশ খান ওরফে সাইদুর রহমান (৩৬) এবং চাঁদপুর সদরের বাসিন্দা বাবু ওরফে চান্দি বাবু ওরফে টাইক্কা বাবু (৪৫)।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হন সীমান্ত। পথে শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগারের সামনে ছিনতাইকারীরা তাঁর গতিরোধ করে ছুরিকাঘাত করে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা একটি মুঠোফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায়, তিনি মো. আলম পরাভেজের ছেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এ রায় প্রদান করেন। তিনি আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অনিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আকাশের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের সময় হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে চান্দি বাবুর বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দ্বিগুবাবুর বাজারের সামনে এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
আদালতের এই রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা মোহাম্মদ আলম পরাভেজ। তিনি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রায়টি অতি দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।