নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার সরানোকে কেন্দ্র অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীকে মারধরের অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি বলেন, “আমি কাউকে মারধর করেনি। আমি কেবল ধমক দিয়েছি, কারণ সে আমাকে গালি দিয়েছে।”
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে গণমাধ্যমকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
টিপু বলেন, “এই কোর্টে কয়েকজন নর্তকী আছে যারা পুরুষদের নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসে। আইন পেশা করে না, খালি আইনের পোশাক পরে এসে বেটাছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে ঘুরে আর নর্তকীগিরি করে।”
অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবো। আমি এখন যে আপনাদের সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছি, আমি রোজা অবস্থায় আছি। এই জিলহজ মাসের রোজা, আজকে আমার চতুর্থ রোজা রেখে আমি আপনাদের সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। আদালতপাড়ায় এক নারী হকারকে তুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রফিক আহমেদের সঙ্গে আমেনা আক্তার শিল্পীর তর্কবিতর্ক হয়। ঘটনাস্থলে গেলে শিল্পী আমার সাথেও দুর্ব্যবহার করেন।”
অ্যাডভোকেট টিপু বলেন, “শিল্পী আমার মাকে তুলে পুরুষের ভাষায় গালি দিয়েছে। এজন্য আমি তাকে ধমক দেই। সে আওয়ামী লীগ ঘরের লোক, সে বিএনপির কিছু না। তাকে সবাই বেয়াদব এবং অশ্লীল ভাষার একজন দজ্জাল মহিলা হিসেবে চিনে। সে কীভাবে কার সাথে ব্যবহার করতে হয়, তা জানে না,” অভিযোগ করেন ওই বিএনপি নেতা।”
আইনজীবীদের কাছে বিচার চেয়ে মহানগর বিএনপির এ সদস্য সচিব আরও বলেন, “আইনজীবীদের কাছে আমি বিচার চাই। সে যত বড় শক্তিশালী নর্তকী হোক না কেন। এই কোর্টে কয়েকজন নর্তকী আছে যারা পুরুষদের নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসে। আইন পেশা করে না, খালি আইনের পোশাক পরে এসে বেটা-ছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে ঘুরে আর নর্তকীগিরি করে। এই নর্তকী শিল্পীর আমি বিচার চাই। যদি বিচার না করা হয়, তাহলে আমার ব্যবস্থা আমি গ্রহণ করবো।”
একই বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে আইনজীবী রফিক আহমেদ বলেন, “আইনজীবী সমিতির সামনে বিভিন্ন হকারের দোকান বসে ও মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখা হয়। এর মধ্যে দুজন হতদরিদ্র হকারকে তারা সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ বিষয়টি জানতে চাইলে ওই নারী আইনজীবী বিএনপি নেতা টিপুকে অকথ্য ভাষায় বাবা-মা কে জড়িয়ে গালিগালাজ করেছে এবং দুর্ব্যবহার করেছে। সেই সাথে আমাকেও গালিগালাজ করেছে ওই নারী আইনজীবী। অথচ আমি তার অনেক সিনিয়র। এ ঘটনায় আমি আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”