নারায়ণগঞ্জে উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদের গৌরবময় ৩ যুগ (৩৬ বছর) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী উৎসবের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে। শুক্রবার (২২ মে) নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ দিনের অনুষ্ঠান।
নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। এ আয়োজন উৎসর্গ করা হয় সুজল রায় চৌধুরী বিকু ও তিলক চৌধুরীকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ফুল পাখি পাঠশালা’র নৃত্য পরিবেশনা এবং পরবর্তীতে উন্মেষের শিল্পীদের পরিবেশনা মঞ্চে প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করে। মাগরিবের নামাজের সংক্ষিপ্ত বিরতির পর শুরু হয় শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা পর্ব।
এ সময় কাঙালিনী সুফিয়াকে উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মারক প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। উত্তরীয় পরিয়ে দেন বিশ্বজিৎ বসাক, ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি ড. ফরহাদ আহমেদ জেনিথ এবং স্মারক তুলে দেন সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ। উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান। অনুষ্ঠানে সুফিয়ার কন্যা পুষ্পসহ বাউল শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা গ্রহণের পর বক্তব্যে কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, “আমরা বাউল শিল্পী হই, নজরুলগীতি হই বা আধুনিক গান—আজ বাংলাদেশে শিল্পীদের তেমন মূল্যায়ন নেই, এটিই আমাদের দুর্দশা।”
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে একাধিকবার আসার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে এবং আবার আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
তিনি নিজের নাম ‘কাঙালিনী সুফিয়া’ হওয়ার পেছনের গল্প তুলে ধরে বলেন, বিদেশ সফরের সময় নামের বিভ্রান্তি এড়াতেই এই নামটি গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘সবার উপরে মানুষ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে সংস্কৃতি চর্চা বিস্তারে তরুণ ও শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দেশে সংস্কৃতির ওপর হামলা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান।
পরে মঞ্চে পাঠ করা হয় কাঙালিনী সুফিয়ার জীবনী। এ সময় নাট্যকর্মী পারভিন সুলতানা চম্পা, সংগঠক মিতু দেবনাথ মায়া, শিপ্রা সাহা এবং নৃত্যশিল্পী আদম চৌধুরীকে সংগঠনের দীর্ঘ ৩৬ বছরের পথচলায় অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত সংগীত, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন বিভাগে মোট ৫৫ জন অংশগ্রহণকারী পুরস্কার লাভ করেন। সংগীত বিভাগে চারটি, আবৃত্তিতে তিনটি এবং চিত্রাঙ্কনে তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর ‘গুরু-শিষ্য’ শিরোনামে পালাগান পরিবেশন করেন কাজল দেওয়ান ও তার দল। সবশেষে কাঙালিনী সুফিয়া গান পরিবেশন করেন এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মী চক্রবর্তী, ফরহাদ আহমেদ জেনিথ, বিশ্বজিৎ বসাক, প্রদীপ ঘোষ, রাকিবুল হাসান জেমসসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।