দলের চরম দুর্দিন ও বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের মুখে যখন নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাঁড়াতেই পারছিলেন না, ঠিক তখনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মনির হোসেন খান। লাগাতার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে রাজপথে দফায় দফায় পুলিশের বুলেটের সামনে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া এই ত্যাগী নেতাকে এখন মহানগর বিএনপির আসন্ন কমিটিতে যোগ্য পদে মূল্যায়নের জোর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে অনেক শীর্ষ নেতাকে শুধু ‘ফটোসেশন’ করে মাঠ ছাড়তে দেখা গেছে, আবার কেউ কেউ গোপনে ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করেছেন। কিন্তু মনির হোসেন খানের মতো হাতে গোনা কয়েকজন নেতা কোনো লাভ-ক্ষতির হিসেব না করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন।
রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন প্রবীণ এই নেতা। মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন নিজ ঘরে ঘুমাতে পারেননি, কাটাতে হয়েছে অনিদ্রায়। কিন্তু কোনো ত্যাগকেই তিনি কষ্ট হিসেবে নেননি; বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের বাধার মুখেও রাজপথে শেখ হাসিনা বিরোধী সোচ্চার স্লোগান দিয়েছেন।
শুধু বিগত আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ছাত্রদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মহানগর বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সাথে একাত্ম হয়ে মাঠে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। তৃণমূলের মতে, এই সকল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়েই বিএনপি আজ পুনর্জাগরণ লাভ করেছে।
“কমিটিতে যাতে কোনো অবস্থায় ‘হাইব্রিড’ বা সুবিধাবাদীরা প্রবেশ করতে না পারে। সুবিধাবাদীরা সুযোগ পেলে নিজেদের স্বার্থে দলকে বিকিয়ে দেবে। তাই দলের স্বার্থেই কর্মীবান্ধব ও সাহসী নেতা মনির হোসেন খানদের মূল্যায়ন করা আবশ্যক।”
— তৃণমূল নেতাকর্মীরা
শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষিত হতে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের আকুল আবেদন, দল যেন ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি তাদের অনুরোধ, কোনো সুবিধাবাদী বা ‘হাইব্রিড’ যেন কমিটিতে স্থান না পায়। রাজধানী সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় ত্যাগী নেতাদের সম্মান জানালে তৃণমূলের কর্মীরা আরও চাঙ্গা ও উৎসাহিত হবে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মো: মনির হোসেন খান বলেন, “আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। দল করতে গিয়ে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, দিনের পর দিন বাড়িছাড়া থেকেছি। এত ত্যাগ শিকার করেছি কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। শুধুমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা তারেক রহমানকে ভালোবেসে রাজনীতি করি। দল যদি আমার এই ত্যাগের মূল্যায়ন করে ভালো, আর না করলেও কোনো ক্ষোভ নেই। বিএনপি করি, আমৃত্যু করেই যাবো।”