“বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর” রাজপথ কাঁপানো সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতি মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠে শরীর। মৃত্যুভয়কে পায়ে ঠেলে হাজারো মুক্তিকামী মানুষের মতো সেদিন বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ইরফান ভূঁইয়া। ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ বার্মাস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া এই রাজপথের লড়াকু সৈনিক গণঅভ্যুত্থানের পরদিন, অর্থাৎ ৬ আগস্ট কারামুক্ত হন। আজ ৬ আগস্ট তাঁর সেই অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত বাতাসের দ্বিতীয় বছর।
কারামুক্তি দিবসের বিশেষ ক্ষণে ছাত্রদল নেতা ইরফান ভূঁইয়া পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল বীর শহীদদের এবং সমবেদনা জানিয়েছেন চিকিৎসাধীন আহত সহযোদ্ধাদের।
সেদিনের অগ্নিগর্ভ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী সেদিন রাজপথ আঁকড়ে ধরেছিলেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে ছাত্র-জনতা প্রকম্পিত করেছিল স্বৈরাচারের ভিত। বীর ভাই-বোনদের হাসিমুখে জীবন দেওয়ার সেই মহাকাব্যিক আত্মত্যাগ কখনো মুছে যাওয়ার নয়।
তবে জুলাই আন্দোলনের সাফল্যকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একক কৃতিত্ব নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন এই জুলাই যোদ্ধা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান কারও একক অর্জন বা সম্পত্তি নয়। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো ছাড়া এ দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষ এবং রাজপথের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ ত্যাগ ও অখণ্ড সমর্থনের ফলেই অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, বীর শহীদদের তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাইয়ের অর্জনকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা ইতিহাসকে এককভাবে কুক্ষিগত করে নিজেদের ‘সর্বেসর্বা’ জাহির করার চেষ্টা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে এই পথ থেকে সরে এসে জনগণের ত্যাগকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।