নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দুপুর বারোটার দিকে কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় উভয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কলেজ রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়, যার ফলে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঘটনায় আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী ও স্নাতক বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন আহমেদ এবং রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপের জের ধরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কলেজের ভেতরে তাদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়, যাতে তিনিও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বিপরীতে ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শিবিরে কর্মীরা সভায় উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেওয়ায় ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ রক্ষায় তারা বাধা দিলে উল্টো ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডের মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়ে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় মিছিল এবং শিবিরের বিরুদ্ধে মহড়া অব্যাহত রাখে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা না হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।