শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

হারুন খালাসী হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ, যা জানা গেল

সিটি নিউজ / ৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মো. হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। কারখানার বিভিন্ন নারী শ্রমিকদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জেরে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলো- মোসা. মীম (২০) ও মো. রানা হোসেন (২৪)। বুধবার (২৭ মে) ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এরআগে নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম (৩৯) এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের শিকার হারুন খালাসী মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি স্বপরিবারে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি রাব্বানীনগর এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, নিহত হারুন খালাসী দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা এলাকায় হোসিয়ারী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য তিনি কারখানায় নগদ টাকা রাখেন। পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান।

পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়া মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি নিহতের হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন। হত্যাকান্ডের শিকার হারুন খালাসী কারখানার বিভিন্ন মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে বলে তা জানতে পারে তারা। এরই মধ্যে হারুন খালাসী আসামি মীম ও মীমের বোন জিম এর সাথে দৈহিক মেলামেশা করতে চায়। কিন্তু রানা জিমকে ভালোবাসে এবং মীম এর অন্যত্র বিয়ে হয়েছে তাই বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারে নাই।

এই ক্ষোভ থেকেই মীম ও রানা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে হারুন খালাসীকে চায়ের সাথে এক পাতা ১০টি ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে অচেতন করে কারখানায় থাকা হোসিয়ারি কাপড় বাধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা নিহতের শরীর কারখানায় রাখা কাপড় দিয়ে ডেকে শ্রমিকদের বেতনের দুই লাখ আশি হাজার টাকা নিয়ে কারখানার দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ফতুল্লা মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলামসহ পুলিশের একটি আভিযানিক দলঅভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই