ভবনের ছাদে ফাটল। বাঁশ দিয়ে সেই ফাটল আটকানোর চেষ্টা। খসে পড়ছে পলেস্তারা। বেড়িয়ে পড়েছে ভেতরের রড ও ইট। পিলারও ভেঙ্গে পড়েছে। জরাজীর্ণ এ অবস্থা শহরের দেওভোগে ২৬নং লক্ষ্মী নারায়ণ বালক ও ২৭নং লক্ষ্মী নারায়ণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। জরাজীর্ণ এ স্কুলটিতে কিছুদিন পর পরই খসে পড়ে ভবনের পলেস্তারা কিংবা পিলারের অংশ। এতে প্রায়ই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের অফিসকক্ষে প্রায় বারমাসই জমে থাকে ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি। ফলে সেখানে এডিস মশার আস্তানা গড়ে উঠেছে, যা শিশু ও জনস্বাথ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সবশেষ গত ৩০ মার্চ স্কুলটির তৃতীয় তলার একটি পিলারের অংশ ভেঙ্গে পড়লে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় পুরো ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও ভবন সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে প্রায় ৫শ’ ৮২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্কুলের ১৪ জন শিক্ষকরাও ক্লাস চলাকালিন পুরোটা সময় থাকেন আতঙ্কে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত এ নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সোমবার (০৬ এপ্রিল) এ স্কুলটির দৈন্যদশা দেখতে যান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মনির হোসেন খান। তিনি স্কুলটি পরিদর্শন করে রীতিমত আত্কে উঠেন। তিনি বলেন, স্কুলের ভবনটির একেবারে ভয়াবহ অবস্থা। যে কোন সময় এটা ভেঙ্গে পড়তে পারে। আর যদি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা চাই না এমন একটি ট্রাজেডির সাক্ষি হোক নারায়ণগঞ্জের মানুষ। তাই আমি আমাদের এমপি সাহেব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রতি জোরালো অনুরোধ করবো, তারা যেন দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ বিষয়ে সময়ক্ষেপন করা কোনো ক্রমেই সমুচিন হবে না। একটু গাফলতিতেই ঝরে যেতে পারে শত শত শিশুদের তাজা প্রাণ। তাই এ বিষয়টি অগ্রাধীকার ভিত্তিতে দেখার জন্য আমি তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আসলে আমরা অতিতে দেখেছি কোনো ধরনের দুর্ঘটনার পরই সরকারের টনক নড়ে। এরপর লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং সেই তদন্ত কমিটি বছরের পর বছর তদন্ত করেও রিপোর্ট জমা দিতে পারে না। কিন্তু আমরা যদি দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি তাহলে হয়তো হাজার হাজার প্রাণ বেঁচে যেতো। তাই আমি জরাজীর্ণ এ স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমার এলাবাসীর পক্ষ থেকে এমপি আবুল কালাম ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়া হোসেন খানের দ্রুত হস্কক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার বলেন, আমাদের এ ভবনটি একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ। এখন আমাদের দরকার একটি নতুন ভবন। যদি আমাদেরকে নতুন ভবন না দেয়, তাহলে যেকোনো সময় ভবন ধসে আমরাসহ আমাদের শিক্ষার্থীরা আহত কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমাদের জন্য বিশেষভাবে একটি ভবনের বন্দবস্ত করে দেওয়ার জন্য। এটা আমাদের একেবারে জরুরী ভিত্তিতেই দরকার। এ বিষয়ে সরকার সুদৃষ্টি দিবে, এটাই আমরা আশাকরি।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি খুবই ভাঙ্গাচুরা। তাই আমরা চাই একটি নতুন বিদ্যালয়। আমরা যখন ক্লাস করি তখন আমাদের অনেক ভয় হয়। কারণ, যদি স্কুলটা ভেঙ্গে পড়ে যায়, আমাদের যদি কিছু হয়ে যায়, এ ভয়ে থাকি। তাই সরকারের কাছে আমরা একটি নতুন বিদ্যালয় চাই।
অভিভাবকরা বলেন, স্কুলটিতে দুর্ঘটনার ভয় আছে। আমরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। কিছুদিন আগে পিলার ভেঙ্গে পড়ায় আমাদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দ্রুত ভবনটির সংস্কার অথবা বিকল্প একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।