২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি বের করার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী শাওন প্রধান। সেই ঘটনার প্রায় ৩ বছরের মাথায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান ও সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ অন্যান্য যুবদল নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরের দিকে শহরের ২ নম্বর রেলগট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাওনের রাজপথে লুটিয়ে পড়া সেই ঘটনাস্থলসহ আরও কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেন যুবদল নেতারা। এসময় জেলা যুবদল নেতাদের কাছে সেইদিনের পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা যুবদল নেতাকর্মীরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো: সাদেকুর রহমান সাদেক বলেন, বাংলাদেশে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হল নারায়ণগঞ্জে ২ নম্বরগেটে শাওন প্রধান হত্যা। আজকে ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে মানবিক দিক থেকে নিজের কাছে খুব কষ্ট মনে হয়। কারণ, পাশে থেকে লোকটাকে হারিয়েছি। তাই সেই ঘটনা বলার ভাষাও খোঁজে পাচ্ছিনা। শুধু একটি কথা বলবো, পহেলা সেপ্টেম্বর আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতি বছরই এ অনুষ্ঠানটা হয়ে থাকে। তাই আমরা সেইদিনও এ অনুষ্ঠানটা করতে চাচ্ছিলাম। ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়টা আপনারা যারা মিডিয়াকর্মী সবাই অবগত আছেন।
তিনি বলেন, একটা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালি করা, এটা মহাভারত অশুদ্ধ করার মত কোন বিষয় না। কিন্তু তবুও তারা আমাদের সেই অনুষ্ঠানটা করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে শত শত লোকদের আহত করেছে এবং শাওনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পরই আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ শাওনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমান সাহেব শাওনের মার নামে ৫ লক্ষ টাকার ডিপিএস করে দিয়েছে। আল আরাফাত ব্যাংকে আমি নিজে উপস্থিত থেকে এ ডিপিএসটি করে দিয়েছি।
সাদেক সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বহু ছেলে-মেয়ে আহত নিহত হয়েছে। তাদের পরিবারের জন্য সরকার অনেক সহযোগিতা করেছে এবং এখনও করছে। যুবদল নেতা শাওনও কিন্তু ওই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাই আমরা এ শাওনের পরিবারের পাশে থাকার জন্যও সরকারকে অনুরোধ করবো। আর আজ যে দাবিটি নিয়ে এসেছি, সেটি হল এ ২ নম্বর রেলগেটে শাওনের নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করতে হবে। আর এ জন্য আমরা জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ রাখছি।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, আমি যতটুকু জানি আগেরদিন রাতে গডফাদার শামীম ওসমান, তার সন্তান অয়ন ওসমান তারা একটি মিটিং করেছিলো যে, পহেলা সেপ্টেম্বরে তারা আমাদের কোন প্রোগ্রাম করতে দিবে না। তাদের ধারণা ছিলো, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন আমরা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করবো এবং এ নারায়ণগঞ্জকে অচল করে দেবো। কিন্তু এ ধরনের কোন কর্মসূচিই সেদিন আমাদের ছিলো না। সেদিন শুধুমাত্র আনন্দ র্যালি করার কর্মসূচি ছিলো। সেই র্যালি করার জন্য আমরা যখন জড়ো হতে শুরু করেছিলোম ঠিক সেই সময়ে গডফাদার শামীম ওসমানদের নির্দেশে পুলিশ আমাদেরকে টার্গেট করে গুলিবর্ষন করে। সেই গুলিতে আমাদের প্রায় ১৮০ জনের মত নেতাকর্মীরা আহত হলেও একটি গুলি আমাদের যুবকর্মী শাওনের বুক ভেদ করে চলে গিয়েছিলো। আসলে আমাদের রাজনীতির কালচারটা এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো যে, বাংলাদেশে শুধু তারাই থাকবে আর কেউ থাকতে পারবে না। তারা আওয়ামী লীগ করে তারাই এখানে বসবাস করবে আর যারা আওয়ামী লীগ করে না তারাই মানুষই না, তারা হলো গরু-ছাগল। আজ তাদের সেই স্বৈরাচারি মনোভাব ধূলোয় মিশে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মুসলমানেরা বিশ্বাস করি যে, স্বৈরাচারিরা কখনও দীর্ঘায়ূ হয় না। জেরুজালেম থেকে যত স্বৈরাচার আসছে, হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে যারা নির্যাতন করেছে তাদের শেষ পরিনতি কি হয়েছিলো আপনারা তা জানেন। তদ্রুপ নারায়ণগঞ্জে যে গডফাদার ছিলো তিনি নিজের কাপড় চোপড় পড়েও যেতে পারেন নি। আমরা যতটুকু জেনেছি, তিনি একটা জাইঙ্গা, একটা সেন্টু গেঞ্জি আর একটা ছিড়া লুঙ্গি পড়ে তার এখান থেকে যেতে হয়েছে।
রনি বলেন, আমরা এখানে শহীদ শাওনের নামে একটি ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করবো। আমরা সেই কাজ করার জন্য এসেছি। আমরা বিভিন্ন এলাকাকে বিভিন্ন নামে চিনি। তেমনি এই ২ নম্বর রেলগেট এলাকাকে যেন সবাই শহীদ শাওন চত্বর নামে চিনে, আমরা সেটাই চাই। আমরা সেই কাজেরই ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করতে চাই। আমি আপনাদের সকলের কাছে শহীদ শাওনসহ তার পরিবারের জন্য দোয়া চাই।
এসময় তাদের সাথে নিহত শাওনের ভাই মিলন প্রধানসহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।