রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

মনির হোসেন খানকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় ১৪নং ওয়ার্ডবাসী

সিটি নিউজ / ১০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সম্প্রতি শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপর আস্থা রেখেছে দেশের জনগণ। ফলে এ দলটি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। ইতোমধ্যেই বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তাদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছে। ফলে নারায়ণগঞ্জে এখন চায়ের টেবিল থেকে করে রাজনৈতিক মঞ্চ সবখানেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠতে দেখা গেছে। আসলে কারা হচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী? এমন আলোচনাই জনমনে বেশি ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণের সেই সব আলোচনায় অন্যান্য প্রার্থীদের মত জায়গা করে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান। তিনি নগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এবার তাকে স্থানীয় এলাকাবাসী কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। কারণ, মনির হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকেছেন। সামাজিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা কিংবা নানা দুর্যোগে তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর এ জন্যই তার প্রতি আস্থা রাখতে চান ১৪নং ওয়ার্ডবাসী।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ইতোপূর্বে এ এলাকায় যারা কাউন্সিলর হয়েছিলেন তারা অনেকাংশেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। জন আকাঙ্খা পূরণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। গোটা ১৪নং ওয়ার্ডটি মাদক, সন্ত্রাস ও ছিনতাইকারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হলেও এ থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীকে পরিত্রাণ দিতে পারেন নি সাবেক ওই কাউন্সিলররা। বরং অনেকাংশে ওই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কাউন্সিলরদের পাশে থাকতে দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও স্থায়ীভাবে এর কোন সমাধানই করতে পারেন নি তারা। ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মত ভয়াবহ পরিস্থিতির সময়ও তাদের বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এলাকায় ঠিকমত ঔষুধ ছিটানোর বন্দবস্ত করা যায়নি। ফলে এলাকার বহু মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছে। এগুলো এলাকার মানুষ কখনও ভুলে যায় নি। তাই তারা এ ওয়ার্ডে নতুন কাউকে কাউন্সিলর হিসেবে চাচ্ছে আর তাদের এ পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে মনির হোসেন খানের নাম, এমনটাই জানিয়েছেন ১৪নং ওয়ার্ডের একাধীক বাসিন্দা।

তারা বলেন, বিগত দিনে মনির হোসেন খান কাউন্সিলর না হয়েও ছায়ার মত ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে থেকেছেন। ওয়ার্ডবাসীর যে কোনো বিপদে আপদে ছুটে এসেছে এবং দ্রুততার সহিত সমস্যার সমাধান করেছেন। সবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের পট পরিবর্তন হলে সারাদেশের ন্যায় এ নারায়ণগঞ্জেও যখন সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দেয়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়ী, ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনাগুলোতে একের পর এক হামলার খবর আসে তখন ১৪নং ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাও আতঙ্ক হয়ে পড়ে। তখন কিন্তু সাবেক কোনো কাউন্সিলরকেই এলাকার মানুষ পাশে পায় নি। তখন এ মনির হোসেন খানই সর্বপ্রথম ছুটে এসেছিলেন ওয়ার্ডবাসীর পাশে। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির পাহারা থেকে শুরু করে তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য দিনরাত কাজ করেন। একমাত্র তার হস্তক্ষেপের কারণেই নারায়ণগঞ্জের অন্যতম হিন্দু অধ্যাষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ১৪নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়া, রাম সীতা মন্দির, শ্রী শ্রী লোকনাথ মন্দির, শীতলা মন্দির, গৌরনিতাই আখড়া, শনি মন্দির ও কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়গুলোকে হামলার হাত থেকে রক্ষা করা গেছে এবং সেই সাথে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও থেকেছেন অনেকটা নিরাপদে, শান্তি ও স্বস্তিতে। সেই সময়ে মনির হোসেন খানের এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আগের থেকেই তাকে কাউন্সিলর হিসেবে পছন্দ করে রেখেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। আর তাই তাদের পছন্দের কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা একবাক্যে বলেন, ‘আমরা মনির খানকেই কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চাই, তাকে ছাড়া অন্যকাউকেই আমরা ভোট দিবো না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান বলেন, আসলে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য আমি সেদিন তাদের পাশে দাঁড়াইনি। তবে সেই সময়টাকে তারা মনে রেখেছে, এ জন্য তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আসলে নিজের দায়িত্ববোধ ও এলাকাবাসী হিসেবে আমি সব সময়ই চেষ্টা করি তাদের পাশে থাকার জন্য। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, আমার কাছে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষই সমান। আমার কাছে বিপদগ্রস্থ মানুষই বড় কথা। সে কোন ধর্মের অনুসারী সেটা দেখার বিষয় মনে করি না। সবার আগে বিপদগ্রস্থ মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করাটাই বড় ব্যাপার মনে করি।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এলাকার মানুষই আমার প্রাণ। কারণ, এ মনির খানের কিছু হলে সবার আগে এলাকাবাসীই ছুটে আসবে। সুতরাং তারা যেটা চায়, আমি তার বাইরে যেতে পারবো না। তারা যদি মনে করে আমি কাউন্সিলর প্রার্থী হলে তারা খুশি, তাহলে আমি তাদেরকে নিরাশ করবো না। তাদের খুশি করতেই আমি কাউন্সিলর প্রার্থী হবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই