শেষ হলো বহুপ্রতিক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। তবে এ জয়ের পিছনে যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান ও শ্রম তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হলো মনির হোসেন খান। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। দীর্ঘ বহুবছর ধরে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের সাথে জড়িত। বিএনপির চরম দুুর্দিনে তিনি এক প্রকার প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়েই রাজপথে নেমেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা টানা হরতাল-অবরোধের সময় যখন দলীয় বহু নেতাকর্মীরা রাজপথে নামার সাহস পায়নি, তখনও তিনি বিএনপির ব্যানারে কখনো হরতাল আবার কখনো অবরোধ সমর্থনে মিছিল করে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেছিলো। পুলিশের সামনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী স্লোগান দিয়ে প্রকম্পিত করে তোলেছিলো গোটা শহর। এ আন্দোলন সংগ্রামের জন্য তাকে অগনন মামলা-হামলার শিকারও হতে হয়েছিলো। মামলার কারণে দিনের পর দিন তাকে পরিবার পরিজন ছেড়ে পালিয়েও বেড়াতে হয়েছে। তবুও কখনো কোনদিন শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আর্দশ থেকে বিচ্যুত হননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যখনই বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়, ঠিক তখন থেকেই সেই দলপ্রেমী মানুষটা ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। প্রায় প্রতিদিনই নিজ এলাকা তথা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন।
বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা মনির হোসেন খানের এই ১৪নং ওয়ার্ডটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে সুপরিচিত ছিলো। কারণ, এই এলাকাটি মূলত হিন্দু অধ্যাষিত এলাকা। হিন্দু সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে লক্ষ্মী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দির, রামসীতা মন্দির, শ্রী শ্রী লোকনাথ মন্দির, ইসকন মন্দির, গৌরনিতাই মন্দির, কালী মন্দির, শনি মন্দির ও শীতলা মন্দিরসহ আরও অনেক মন্দির ও আখড়া। ফলে এসব মন্দির ও আখড়াকে কেন্দ্র করে এখনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাসও অনেক বেশি। এসব হিন্দু সম্প্রদায় বিগত আমলে নৌকা ছাড়া আর কিছুই চিনতো না। তারা এতটা বছর নৌকা প্রতীকেই ভোট দিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার নৌকা প্রতীক না থাকায় তারা ধরেই নিয়েছিলো ভোট দিতে যাবে না। কিন্তু মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খানের অক্লান্ত পরিশ্রম, দিন-রাত প্রচারণা ও কাউন্সিলের কারণে সেই সকল হিন্দু ভোটররা অবশেষে নৌকা বাদ দিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। ফলে এখানকার প্রায় সবকটি ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনির হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, আসলে আমার কিছু বলার নেই। দল জিতেছে এতেই আমি খুশি। আবুল কালাম ভাই অনেক ভালো মানুষ। ভালো মানুষের পক্ষে কাজ করতে পেরে আমিও আনন্দিত।
তিনি বলেন, আসলে দলের একজন সামান্য কর্মী হিসেবে দলের পক্ষে কাজ করাটা আমার দায়িত্ব বলে আমি মনে করেছি। বলতে গেলে, এটাও দলের একটা আদর্শ। যারা বেঈমান তারাতো বেঈমানি করবেই। তবে দলের জন্য আমি কতটা করতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আসলে আমার ১৪নং ওয়ার্ডের বেশিরভাগ ভোটারই হিন্দু সম্প্রদায়। তারা বেশিরভাগই ছিলো আওয়ামী লীগের ভোটার। সারাজীবন তারা নৌকায় ভোট দিয়েছে। ধানের শীষে তাদের আস্থা আনাটা কম কষ্টের ছিলো না। কিন্তু আল্লাহ্’র অশেষ রহমতে আমি পেরেছি। তারা আমার কথা রেখেছে। তারা বলেছিলো, কাকা আপনাকে কথা দিলাম ‘আমরা ধানের শীষে ভোট দিবো।’ তবুও ভয় হচ্ছিলো, কারণ যদি তারা বায়েষ্ট হয়ে যায়, শেষমেষ যদি তারা ভোটকেন্দ্রে না আসে। কিন্তু না। ভোটের দিন যখন তাদের ভোট কেন্দ্রে দেখলাম, আনন্দে আমার বুকটা ভরে যাচ্ছিলো। তারা সবাই ধানের শীষের ওপর আস্থা রেখেছে এটাই আমার কাছে সবচাইতে বড় পাওয়া।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান তার ১৪নং ওয়ার্ডের দেওভোগ আখড়া, জিউসপুকুরপাড়া (দিঘিরপাড়), ভূঁইয়ারবাগ ও আলী আহমেদ চুনকা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার হিন্দু ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থণা করেন এবং ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করেন।