নারায়ণগঞ্জে বিপুল উৎসাহ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা স্থানে সকাল থেকেই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল নামে। ঈদের নামাজের পর নারায়ণগঞ্জ শহরের পাড়া মহল্লায় পশু কোরবানি করেছেন মুসলমানেরা।
সকালে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাতটা ও আটটায় দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ এলাকায় সড়কেই কোরবানির পশু কোরবানি করেছেন মুসল্লীরা।
এদিকে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির বলেন, আপনারা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন। পশু কোরবানির পর পশুর বর্জ্যে আপনাদের চারপাশের পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনাদের চারপাশের পরিবেশ যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেজন্য আপনাদেরও উদ্যোগ নিতে হবে।
কোরবানির ঐতিহাসিক পটভূমি
ঈদুল আজহার ইতিহাস হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নযোগে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কঠিন পরীক্ষা। তিনি সেই পরীক্ষায় পূর্ণ আনুগত্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, নিজের চোখ বেঁধে যখন তিনি পুত্রকে জবাই করতে গেলেন, চোখ খুলে দেখলেন আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইলের স্থানে একটি পশু কোরবানি হয়েছে। সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার স্মরণে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে ইসলামী শরিয়তে কোরবানির বিধান প্রবর্তিত হয়েছে এবং সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য তা ওয়াজিব।
পবিত্র কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, নামাজ এবং কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করতে। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বাসহ যেকোনো হালাল পশু কোরবানি দেওয়া যায়।