জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন সবচাইতে বেশি আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের। এ নির্বাচনে সাবেক কাউন্সিলররা প্রার্থী হলেও নতুন করে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দেখা যাচ্ছে নতুন মুখ। এ নতুন মুখগুলোর মধ্যে প্রবীণ ও নবীনদের সংখ্যা অনেকটা সমান সমান। তবে প্রবীণদের চাইতে নবীনদের প্রতিই আস্থা বেশি দেখা যাচ্ছে ভোটারদের।
এবারে নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডের মধ্যে একটু বেশি আলোচনায় রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডটি। কারণ, সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর থেকেই এ ওয়ার্ডটিতে যে দুইজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ছিলেন তারা ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যতম মাফিয়া। তারা ওয়ার্ডবাসীকে সেবার নামে নানাভাবে শোষন করেছেন। এলাকায় সন্ত্রাসী ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নিরিহ মানুষের প্রতি জুলুম নির্যাতন-নিপীড়ন করে গেছেন দিনের পর দিন। কিন্তু তাদের ভয়ে এলাকাবাসী কখনো টু শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেনি।
চব্বিশের ৫ আগষ্টে সেই মাফিয়াদের পতন হলে ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে একটা স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করে। তবে তখনও ওয়ার্ডের পরিস্থিতি ছিলো অনেকটাই ভয়াবহ। মাফিয়াদের পতন হলেও সারাদেশের ন্যায় ৬নং ওয়ার্ডেরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই ভেঙ্গে পড়ে। ফলে এলাকাবাসীর মনে নতুন করে আতঙ্কের দানা বাধতে শুরু করে। কিন্তু স্থানীয় তরুণ সমাজ সেবক ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ইরফান ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে ওয়ার্ডবাসীর মনে দানা বাধা সেই আতঙ্ক নিমিশেই দূর হয়। তিনি ছায়ার মত ওয়ার্ডবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম তথা চুরি ডাকাতি ঠেকাতে তিনি রীতিমত পাহারাদার হিসেবে কাজ করেন। ফলে তার প্রতি ওয়ার্ডবাসীর একটা আস্থা চলে আসে। সেই থেকেই ওয়ার্ডবাসীর আস্থা নিয়েই এগিয়ে চলেছেন ৬নং ওয়ার্ডের তরুণ সমাজ সেবক ইরফান ভূঁইয়া।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডবাসী বলেন, বলতে গেলে ওয়ার্ডবাসীর অন্তিম সময়ে ইরফান ভূঁইয়া আমাদের পাশে ছায়ার মত দাঁড়িয়েছিলো। তিনি ওয়ার্ডবাসীর যে কোনো বিপদে আপদে ছুটে আসেন এবং দ্রুততার সহিত সমস্যার সমাধান করেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের পট পরিবর্তন হলে সারাদেশের ন্যায় এ ওয়ার্ডেও যখন সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দেয়, তখন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তখন এ তরুণ ইরফানই সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন ওয়ার্ডবাসীর পাশে। তিনি ওয়ার্ডবাসীর জীবনের নিরাপত্তার জন্য দিনরাত কাজ করেছেন। একমাত্র তার হস্তক্ষেপের কারণেই এ ওয়ার্ডে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থেকেছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে, শান্তিতে ও স্বস্তিতে থেকেছেন। সেই সময়ে তার এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আগের থেকেই তাকে কাউন্সিলর হিসেবে পছন্দ করে রেখেছিলেন ওয়ার্ডবাসী-এমনটাই জানিয়েছেন ওয়ার্ডবাসী।
এদিকে সমাজ সেবার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতেও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এ তরুণ রাজনীতিবিদ। দলের জন্য বহু ত্যাগী তিতিক্ষা করেছেন তিনি। সবশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্র-জনতার ওই আন্দোলনে তিনি অনেকটা প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আর এ জন্য তার বিরুদ্ধে হাফডজন মামলাসহ তাকে কারাবাসও করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ইরফান ভূঁইয়া বলেন, আসলে কিছু পাওয়ার আশায় আমি রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আর্দশ বুকে ধারণ করে আমি জনতার রাজনীতি করি। সেদিন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মাঠে অবস্থান করেছিলাম। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, কিন্তু পিছু হাটিনি। কারণ, পিছু হাটার রাজনীতি আমি করি না। মরতে হলে বীরের মত রাজপথে মরবো-এ নীতিকে অনুসরণ করেই আমরা সেদিন তথা জুলাই আন্দোলনে মাঠে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। পরে মাঠ থেকেই পুলিশ আমাকে ৪টি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে। পরে জেলে থেকে আরও তিন মামলার আসামী হই। আমিতো ভেবেইছিলাম যে, আমাকে হয়তো সারাজীবন জেল হাজতেই কাটাতে হবে। কারণ, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তখন অনেক বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলো। যদি ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তন না হতো তাহলে আমাদের যে কি হতো তা ভাবলেই শরীর শিউরে উঠে। যাইহোক, ৫ আগষ্টের কারণেই আমরা জামিন পাই। এ জন্য আমি আমার সহযোদ্ধা যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আমি ৬ আগষ্টে জামিন পেয়েই সোজা নিজ এলাকায় চলে আসি এবং এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াই। একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাই। অবশেষে সফল হই। এ জন্য এলাকাবাসী আমাকে খুব ভালোবাসে।
কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আাসলে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে করতে কখন যে আমি তাদের হয়ে গেছি, জানতেও পারিনি। এখন তারা খুব করে ধরছে, আমি যেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করি। আমি কোনদিনও কল্পনা করি নি যে, আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবো। কিন্তু এখন আর কি করা? আমার এলাকাবাসী যদি চায় তাহলে আমারতো নির্বাচন করতেই হবে। তবে স্থানীয় মরুব্বীদের দোয়া পেলেই আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য মাঠে নামবো। এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে ওয়ার্ডবাসীকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সন্ত্রাস মাদকমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে এই ৬নং ওয়ার্ডকে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ্।