সাজু দেওয়ান। সদা হাস্যজ্জল একটা মানুষ। না, তিনি কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নন। তবে তিনি জাতীয়দতাবাদী দলকে সমর্থন করেন। দলটির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপষহীন নেতৃত্ব তাকে বার বার মুগ্ধ করেছে। তাই তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। এবং এ দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শ ও নীতির প্রতিও তার কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী না হয়েও অনেকটা পিছন থেকেই এ দলকে সহযোগীতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
তবে রাজনৈতিকভাবে তার কোন পরিচয় না থাকলেও তার ভিন্ন একটা বড় পরিচয় রয়েছে। আর সেটা হলো তিনি একজন মানবিক মানুষ। যে কোন মানুষের বিপদে আপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তে পছন্দ করেন। মানুষের পাশে থাকাটাই যেন তার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর তাইতো তিনি স্বাধ্যমত চেষ্টা করেন তার আশেপাশে থাকা অসহায় মানুষগুলোর পাশে থাকার জন্য।
সাজু সমাজের কোন প্রভাবশালী কিংবা কোন অর্থবিত্তবান মানুষ নন। সামান্য একটা ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজ করেন তিনি। কিন্তু মানুষের পাশে থাকার যে ব্রত, সেই ব্রত থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পারেন নি। সামান্য কিছু নিয়েও যে মানুষের পাশে থাকা যায়, তার জলন্ত প্রমাণ এ সাজু।
সাজু নিরবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড করে নিজ এলাকাবাসীর কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। পবিত্র মাহে রমজানেও তার সেই সামাজিক কর্মকান্ড থেমে নেই। এ মাসে সামান্য বেতন থেকে নিজ হাত খরচের জন্য রাখা অর্থ এবং বন্ধ বান্ধবের সহায়তায় তিনি অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মধ্যরাতে সেই অর্থ দিয়ে সেহরির খাবার তুলে দিচ্ছেন অসহায় মানুষদের হাতে।
নগরীর পাক্কারোড ও ২নং রেলগেট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষ ও রাস্তায় চলাচল করা দিনমজুরদের হাতে সেহরির খাবার তুলে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন তিনি। যা চলবে পুরো রমজান মাসজুড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাজু বলেন, আমি কোন মেম্বারও হতে চাই না, কোন চেয়ারম্যানও হতে চাই না। কোন জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন আমার কোন কালেই ছিলো না, এখনও নেই। আসলে এসব কাজ আমার খুব ভালো লাগে, তাই করি। আমি অনেক বছর ধরেই এসব কাজ করে আসছি। সব সময়ই গোপনে করি। কারণ, এসব কাজ গোপনেই করা উচিৎ। কিন্তু ছোট ভাইয়েরা হঠাৎ করে ছবি তোলে ফেসবুকে ছেড়ে দিছে। তাই হয়তো, বিষয়টা জানাজানি হয়েছে। যাইহোক, আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকতে পারি।