নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে চারটি স্থগিত মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে ৫৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪০টি বৈধ ঘোষণা করা হলো। সেই সঙ্গে ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে তিনটি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একটি মনোনয়নপত্র স্থগিত ছিল, পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবির আইন অনুযায়ী সেগুলো বৈধ ঘোষণা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও এর মধ্যে দুটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। একই আসনে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার কারণে মনিরুজ্জামান চন্দনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মোট ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে ঋণ খেলাপির কারণে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আউয়াল ও মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া হলফনামা সঠিক না থাকা এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাবিবুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে অসম্পূর্ণ হলফনামা দাখিলের কারণে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমা দেওয়া ১৫টি মনোনয়নপত্রের ৫টি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তথ্য গোপন করে অসম্পূর্ণ হলফনামা দাখিল করার কারণে আরিফ ভুইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। একই অভিযোগে ইকবাল হোসেন ও সেলিম আহমেদের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। তিতাস গ্যাসের বিল পরিশোধ না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
এ ছাড়া ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১২টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং একই কারণে আবু জাফর আহমেদ বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ ছাড়া তথ্য গোপনের অভিযোগে নাহিদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। জেলায় ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন ইলেক্টোরাল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়েও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।