বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিও পাল্টে যাচ্ছে ! তাই বদলাতে হচ্ছে আমাদেরও। আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন সিটি নিউজ পোর্টালের আপডেট ভার্সন। নতুন সাইটে আপনি আরো দ্রুততার সাথে ঝপটপ খবর পড়ে নিতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ছয় বার সাইট আপডেট করেছি। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির ক্ষমা প্রার্থণা: ওয়েব সাইটটি আপডেট করার সময় পুরনো সাইটের কমবেশি ১০ শতাংশ খবর ”ডাটালস” এর কারণে কোনও পুরনো লিঙ্ক নাও খুলতে পারে। এটা একান্তই টেকনিক্যাল গ্রাউন্ড। যে কারণে সিটি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী। সঙ্গে থাকুন।

কাউন্সিলর হিসেবে কাজী সেজানেই আস্থা ১৮নং ওয়ার্ডবাসীর

সিটি নিউজ / ৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। যদিও এখন পর্যন্ত এ নির্বাচনের কোন সময়-সীমা জানাযায়নি। তবুও নারায়ণগঞ্জের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবং এ আলোচনাকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ঘটনা।

সোমবার মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের ঘটনার পর থেকেই সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা উঠে-পড়ে লেগেছেন। তারা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন।

জানাগেছে, ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবারে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় শতাধীক। এসব প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই সরকার দলীয় সমর্থক কিংবা নেতাকর্মী। অপরদিকে সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীও কম নয়। এক্ষেত্রে সরকার দলীয় তথা বিএনপির প্রার্থীই প্রায় হাফ ডজন ছাড়িয়ে যেতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষমেষ কে পাবেন চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন, এটাই এখন সময়ের ব্যাপার। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ভিন্ন। কারণ, কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডে একটি দলের একাধীক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশাল সংখ্যক এ প্রার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাই প্রার্থীদের কাছে বিশাল চেলেঞ্জের ব্যাপার।

এদিকে শহরের বুকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডের মধ্যে অন্যতম একটি ওয়ার্ড হলো ১৮নং ওয়ার্ড। এটি এক সময়ে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো। তবে কালের বির্বতনে সেই প্রসিদ্ধ হারিয়ে গেলেও এখনও এ অঞ্চলটি পাইকারি ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্ব বহন করে। প্রায় ২.১৪ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনের এ ওয়ার্ডটির পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদী এবং পশ্চিমে রয়েছে পাইকপাড়া খেলার মাঠ। বিগত সময়ে যারাই এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়েছিলেন তারা সবাই নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। ফলে ওয়ার্ডবাসী তাদের কাছ থেকে চরম অবহেলা আর বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই পায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দলীয় লোক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ ফোটে কিছু বলতে পারতো না। প্রতিবাদ করলেই ওয়ার্ডবাসীর জীবনে নেমে আসতো জুলুম-নির্যাতন। ফলে কাউন্সিলর ও তাদের লোকজনদের অন্যায় অবিচার দেখেও নিরবে মুখ বুজে সবকিছু সহ্য করতে হয়েছে ওয়ার্ডবাসীকে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে অন্যান্য ওয়ার্ডের চাইতে ১৮নং ওয়ার্ডটি একটু বেশিই অবহেলার শিকার হয়েছে। দিনের পর দিন রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা থাকলেও এগুলো সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেননি কাউন্সিলররা। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট থাকলেও এসব অপকর্ম বন্ধে কাউন্সিলররা ছিলেন উদাসীন। এছাড়া সন্ত্রাস-ভূমিদস্যুতাও ছিলো লাগামহীন। কাউন্সিলররা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এসমস্ত সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যুদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, কোন কোন কাউন্সিলরদের সেল্টারে ট্রলারঘাট ও অটোস্ট্যান্ড থেকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজীর অভিযোগও রয়েছে। শহরের বুকে একটি ওয়ার্ডের যখন এ অবস্থা স্বাভাবিকভাবে ওই এলাকার মানুষ ওইসব কাউন্সিলর থেকে মুক্তি পেতে চাইবে। কিন্তু সময় সুযোগের অভাবে তা আর হয়ে উঠছিলো না। কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে জনগণের কাছে সেই সুযোগটি চলে আসে। জুলাই অভ্যুত্থানে ওই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে অভিশাপ মুক্ত হয় ১৮নং ওয়ার্ড। সেই থেকেই ১৮নং ওয়ার্ডের হাল ধরতে দেখা গেছে স্থানীয় তরুণ সমাজ সেবক ও ক্রীড়া প্রেমী কাজী সেজানকে। কাজী সেজান একের পর এক জনসেবামূলক কর্মকান্ড করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি ১৮নং ওয়ার্ড থেকে মাদক-সন্ত্রাস দূর করার জন্য নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করে স্থানীয় যুবক ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী উপহার থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। যারফলে তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, তারা মনে মনে এমন একজন মানুষকেই জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলর হিসেবে খোঁজছিলেন যিনি হবেন একজন পরিচ্ছন্ন ও জনদরদী মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে কাজী সেজান তাদের সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ১৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব কাজী সেজানের হাতেই তুলে দিতে চান এলাকাবাসী, এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কাজী সেজান বলেন, আাসলে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে করতে কখন যে আমি তাদের হয়ে গেছি, জানতেও পারিনি। এখন তারা খুব করে ধরছে, আমি যেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করি। আমি কোনদিনও কল্পনা করি নি যে, আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবো। কিন্তু এখন আর কি করা? আমার এলাকাবাসী যদি চায় তাহলে আমারতো নির্বাচন করতেই হবে। তবে স্থানীয় মরুব্বীদের দোয়া পেলেই আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য মাঠে নামবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিভাগীয় সংবাদ এক ক্লিকেই